মীনাক্ষীর গাড়ি লক্ষ্য করে উড়ে এল ডিমডিম থেরাপি চলছে তো চলছেই। বন্ধ হওয়ার নামই নেই। এমনকী প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে বারবার বারণ করার পরও এই ট্রেন্ড প্রবাহমান। আর এবার কোনও শাসক দলের নেতানেত্রী নয়, বরং ডিম থেরাপির শিকার হলেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
শুক্রবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে তাঁর গাড়ির দিকে ছোড়া হয় একের পর এক ডিম। আর সেই সময়ের ভিডিও নিজেই করেন মীনাক্ষী। সেই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, 'আগে এদের পুলিশ গ্রেফতার করুক। তারপর দেখা যাবে। আমার অপরাধটা কী? রাস্তায় কি বেরনো যাবে না?' আর এই ঘটনার জন্য তিনি সরকারি বিজেপি কর্মী এবং সমর্থকদের দিকেই অভিযোগ তুলেছেন।
কেন শিতলকুচিতে মীনাক্ষী?
আসলে শিতলকুচি ব্লকের সিংহমারি গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মিঞা গত শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আর রবিবার উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। তাঁর মৃতদেহ খুটামারি নদীর ধারে দেখতে পাওয়া যায়। তারপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মন্ট গরু কেনাবেচা করতেন। তাই গোরক্ষক বাহিনী তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে। এই খবর সামনে আসার পর থেকেই সরব বঙ্গ সিপিআইএম। তারা এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই হত্যার বিচারও তারা প্রশাসনের থেকে চেয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতেই শীতলকুচিতে মৃত সিপিআইএম কর্মীর বাড়ি যান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী। আর তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ডিমের আঘাতে গাড়ির সামনের কাচ পুরো আবছা হয়ে যায়। তখনই গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিতে বলেন মীনাক্ষী। নিজেই হামলার ভিডিও করতে শুরু করেন।
সেই ভিডিওতে অভিযোগের সুরে মীনাক্ষী বলেন, 'আগে এদের গ্রেফতার করা হোক। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে আর ওরা যা খুশি তাই করে যাবে? আমার অপরাধটা কোথায় বলুন? বাইরে বেরনো যাবে না?'
এমন পরিস্থিতিতে তিনি বারবার অপরাধীদের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি তিনি এই ভিডিও পুলিশের হাতে তুলে দেবেন বলেও জানান। যদিও এই নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিজেপি। এখন দেখার ঠিক কোন দিকে যায় পরিস্থিতি। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না।