গরুমারায় দুর্ঘটনা, পাতাওয়ালাকে শুঁড়ে আছড়ে মারল কুনকি হাতি। প্রতীকী ছবিGorumara National Park: মাসখানেক আগেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কাজ বলতে সরকারি কুনকি হাতিকে খাওয়ানো, খাওয়ার জোগাড় এসব। যাকে বন দফতরের ভাষায় পাতাওয়ালা বলে। তার মধ্যেই ঘটে গেল বিপত্তি। ওই হাতির আক্রমণেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাতে হল পাতাওয়ালাকে। ঘটনার পর গরুমারা জাতীয় উদ্যানে শোকের ছায়া। ঘটনার তদন্ত করবে বন দফতর।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মাধে খেড়িয়া। তিনি মেটেলি ব্লকের মূর্তি এলাকার বাসিন্দা। মাসখানেক আগেই মাধেকে কাজে নিয়েছিল বন দফতর। যে হাতিটির আক্রমণে তাঁর মৃত্যু হয় সেই কুনকিটির নাম মানিক। হাতির আক্রমণে মাহুত বা পাতাওয়ালার মৃত্যুর ঘটনা এর আগে জলদাপাড়ায় একাধিকবার ঘটলেও, গরুমারায় এটাই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
উত্তরবঙ্গের বনপাল ভাস্কর জেভি ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মানিক নামের হাতিটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার মাধের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনার পরেই ওই কুনকিকে গরুমারার বাকি কুনকিদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। তার ওপর বিশেষ নজরদারিও চালানো হচ্ছে। কীভাবে ওই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে রায়গঞ্জ থেকে মানিক নামের একটি মাকনাকে গরুমারায় আনা হয়। তারপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে গরুমারা বিটের গারাতি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। মাসখানেক ধরে তার খাবারের দায়িত্ব ছিল ওই মাধের ওপর। প্রতিদিনের মতো এদিনও বিকেল নাগাদ মানিককে মূর্তি নদীতে স্নান করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আচমকাই মানিকের মেজাজ বিগড়ে যায়। সে শুঁড় দিয়ে আঘাত করে মাধেকে। গুরুতর জখম অবস্থায় মাধেকে বাকি মাহুত ও বনকর্মীরা উদ্ধার করে মঙ্গলবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।