
Leopard Attack: চা বাগানের রাস্তায় চলন্ত বাইকের উপর আচমকা চিতাবাঘের হামলা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন সঞ্জয় ঠাকুর (৩৫) নামে এক বাইকচালক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির মাটিয়ালি ব্লকের বড়দিঘি চা বাগান এলাকায়। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও চিতাবাঘ আতঙ্ক। বুধবার সন্ধ্যায় কার্শিয়াং মহকুমার দুধিয়া এলাকায় মন্দিরে পুজোর কাজ করার সময় চিতাবাঘের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন পুরোহিত জিতেন্দ্র রাই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বড়দিঘি চা বাগান থেকে বাতাবাড়ি ফার্ম বাজারের দিকে যাওয়ার সময় চা বাগানের ভিতরের রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধীর গতিতে বাইক চালিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন পেশায় ক্ষৌরকার সঞ্জয় ঠাকুর। সেই সময় হঠাৎ করেই চা বাগান থেকে একটি বড় চিতাবাঘ বেরিয়ে এসে তাঁর চলন্ত বাইকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলার মুহূর্তে অসীম সাহস দেখান সঞ্জয়। বাইক না থামিয়ে চলন্ত অবস্থাতেই বাঁ পা দিয়ে চিতাবাঘটিকে লাথি মারেন তিনি। এরপর চিতাবাঘটি ফের চা বাগানের গভীরে পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় সঞ্জয়ের বাঁ পায়ে থাবা বসিয়ে দেয় চিতাবাঘটি, ফলে তিনি আহত হন। সঞ্জয় ঠাকুর বলেন, “হঠাৎ করেই চিতাবাঘটা চলন্ত বাইকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত অবস্থাতেই লাথি মারি। কোনও দিন এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। এখন গোটা বাগানেই ভয় ছড়িয়ে পড়েছে।”
আহত অবস্থাতেই সঞ্জয় বাতাবাড়ি ফার্ম বাজারে পৌঁছন। সেখানে উপস্থিত পেশায় শিক্ষক পারসরাম মাহালি তাঁকে নিজের বাইকে করে চালসার মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে চা বাগানের অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
দুধিয়াতেও চিতাবাঘের হামলা, গুরুতর জখম পুরোহিত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুধিয়ার মুক্তি পুল পিকনিক স্পটের কাছে অবস্থিত ‘মুক্তেশ্বর শিবধাম’ মন্দিরে সন্ধ্যাবেলায় একা পুজোর কাজ করছিলেন জিতেন্দ্র রাই। সেই সময় আচমকাই জঙ্গল থেকে একটি চিতাবাঘ বেরিয়ে এসে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুধিয়া থেকে নলদারা যাওয়ার রাস্তাতেই এই হামলা হয়।
পুরোহিতের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে চিতাবাঘটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ঘাম ছুটেছে বন দফতর ও পুলিশের
পরপর চিতাবাঘের হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও বন দপ্তরের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছান। বন দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুই চাকার যানে চলাচলকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শীতের সন্ধ্যা ও রাতের দিকে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন বন আধিকারিকরা। দুধিয়া ও মাটিয়ালি এলাকা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।