তৃণমূলে যাওয়ার পথেই BJP-র জন বার্লা? আলিপুরদুয়ারে জল্পনা শুরুJohn Barla May Join Tmc: বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের প্রভাবশালী নেতা জন বারলাকে নিয়ে ফের জল্পনা তুঙ্গে। শেষ লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ার পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল। কখনও নরমে, কখনও গরমে তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলের এই সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন না। যা নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছিল দলে। এবার তাঁকে নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাঁর তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনাকে ঘিরে। তাঁকে একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি তা নিয়ে নিজেই সেই জল্পনাকে উসকে দেন তিনি।
শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলতি আলিপুরদুয়ার সফরেই তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এদিনই তৃণমূলে পতাকা হাতে নেবেন বলেও কোনও কোনও মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। বারলাকে সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, দিল্লিতে রয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে বিজেপি প্রতারণা করেছে।
২১ তারিখ মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা সফরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২১ তারিখ বিকেলে তিনি মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের মালঙ্গিতে আসছেন। ওইদিন তিনি মালঙ্গি বনবাংলোয় রাত কাটাবেন। জানা গিয়েছে বারলা ২১ তারিখ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
বারলা বিজেপি ছাড়লে চা বলয়ে বিজেপির সংগঠনে কতটা প্রভাব পড়বে তা সময়ই বলবে। তবে তিনি রাজ্যের শাসকদলে যোগদান করলে জেলার ৬৪টি চা বাগানেই তৃণমূলের সংগঠন মজবুত হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দল।
এর আগে জন বার্লার লক্ষ্মীপাড়ার বাড়িতে হাজির তৃণমূল নেতৃত্ব। গত সপ্তাহে ঘাসফুল শিবিরের নেতারা জনের বাড়িতে তঁর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক দীপেন প্রামাণিক, দলের জলপাইগুড়ি জেলা নেতা দুলাল দেবনাথ বার্লার বাড়িতে গিয়েছিলেন।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে বিজেপির টিকিট পাওয়া নিয়ে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বারলার। টিকিট না পাওয়ায় তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তথা দলের জেলা সভাপতি মনোজ টিগ্গাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচারেও নামেননি জন। বরং ভোটের প্রচারপর্বে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মনোজের বিরোধিতাই করেছেন। এরপর থেকে বারলার সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে গেরুয়া শিবিরের।