একদিনে গ্রেফতার ৫ বাংলাদেশিমালদায় ফের গ্রেফতার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মালদার হাবিবপুর এলাকা থেকে পুলিশ পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। আজ তাদের মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়। ভোরে হবিবপুর থানার বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দাল্লা মধ্যপাড়া এলাকা থেকে চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম ভীম রায়, রতন রায়, শ্রীপন রায় এবং দুর্জয় মণ্ডল (২২)। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহি জেলার গোদাগাড়ি এলাকায়। পঞ্চম ব্যক্তি মহম্মদ আজহার আলীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডাল্লা মধ্যপাড়ার বাসিন্দারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা করতে দেখে হাবিবপুর পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে গ্রেফতার করে। অন্য একটি পৃথক অভিযানে, বিএসএফের ৮৮তম ব্যাটালিয়ন আগ্রা-হরিশ্চন্দ্রপুর সীমান্তের কাছে পঞ্চম বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ধৃতদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ২৩-এর মধ্যে। ধৃতেরা জানিয়েছেন, হবিবপুরের ভারত-বাংলাদেশের জঙ্গলের খোলা সীমান্ত দিয়ে হেঁটে তাঁরা এ পারে প্রবেশ করেন। এ পারে ঢুকিয়েই দালাল পালিয়ে যান। এরপরে শহরে আসতে ভোরের শুনশান রাস্তায় চার কিলোমিটার হাঁটেন। অজানা জায়গায় কিছুই তাঁরা চিনতে পারছিলেন না। সেই সময়ে পুলিশের ভ্যান টহলদারি চালাচ্ছিল। চার যুবকের চলাফেরা দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরে আসল ঘটনা প্রকাশ পায়।
আসন্ন নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতার মালদা জেলায় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দক্ষিণ মালদার বিজেপির মুখপাত্র অম্লান ভাদুড়ী অভিযোগ করেছেন যে শাসক দল নির্বাচনের জন্য অস্ত্র মজুদ করার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী অভিযোগগুলি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, প্রশাসন সতর্ক এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা অপরাধীদের ধরতে এবং অবৈধ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। হাবিবপুর পুলিশ বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।