মালদায় প্লাবনবাড়ছে গঙ্গার জল। এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ অবস্থা মালদার মানিকচকের উত্তরচন্ডীপুর গ্রামপঞ্চায়েতের। গঙ্গার বুকে তৈরি হওয়া শতাধিক বছরের পুরনো ভূতনি চর জলের তলায়। সড়কপথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
আর আশঙ্কার বিষয় হল, এখনও ক্রমাগত বাড়ছে গঙ্গার জল। যার জন্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা।
ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভ
প্লাবনের কারণে বিরাট অঞ্চলের অবস্থা খারাপ। এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে না ত্রাণ বল অভিযোগ। যার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, চাষের জমি থেকে বসতবাড়ি, সবই এখন জলমগ্ন। যার জেরে আশ্রয় শিবিরে বহু মানুষ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে গঙ্গা নদীর জলস্তর। ইতিমধ্যে চরম বিপদ সীমার ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। কেশরপুরের বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন প্রায় ৩০টিরও বেশি গ্রাম। যার মধ্যে দুর্লভোলা, ভুবনটোলা, কেদারটোলা, মানিকনগর সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ব্যাপকভাবে জলমগ্ন। জলবন্দী প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।
কী করছে প্রশাসন?
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মানিকচকেই রয়েছেন রাজ্যের দুই প্রতিমন্ত্রী। মানিকচকে থেকেই সম্পূর্ণ পরিস্থিতির তদারকি করছেন তাঁরা। তাঁদের সহায়তায় রয়েছে মানিকচকের বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মন্ডল। সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। উদ্ধারের চেষ্টা করছে প্রশাসন। তবে অনেকেই নিজের বাড়ি ছাড়তে নারাজ। জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে। তাই তাদের যে কোনও প্রকারে উদ্ধারে তৎপর প্রশাসন। ওদিকে আবার স্থানীয়দের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
রতুয়ার হালও খারাপ
মানিকচকের পাশাপাশি রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কাটাহা দিয়ারায় একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র মহানন্দটোলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র জলমগ্ন। জল ঢুকেছে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে। জলবন্দি রতুয়ার চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০ হাজার মানুষ। রাস্তার উপর দিয়ে বইছে বন্যার জল। এখন দেখার পরিস্থিতি কত তাড়াতাড়ি ঠিক হয়।