আমার বাংলাদেশি স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেবেন না, ও এখন হিন্দু হয়ে গিয়েছে; কাতর আবেদন স্বামীর

পুলিশ সূত্রের খবর গুজরাত জুড়ে বর্তমানে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে অপারেশন ডেল্টা হান্ট নামের একটি রাজ্যব্যাপী বড়সড় অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ কাজলকে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে আটক করে।

Advertisement
আমার বাংলাদেশি স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেবেন না, ও এখন হিন্দু হয়ে গিয়েছে; কাতর আবেদন স্বামীরহিন্দু ধর্ম গ্রহণ করায় বাংলাদেশে প্রাণসংশয়, গুজরাতে আটক স্ত্রীর মুক্তির আর্জি স্বামীর (প্রতীকী ছবি)

ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ এবং তারপর প্রেম, অবশেষে ভালোবাসার টানে এক দশক আগে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশের তরুণী। কিন্তু এত বছর পর গুজরাত পুলিশের বিশেষ অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরা পড়তে হলো দুই সন্তানের জননীকে। বর্তমানে আহমেদাবাদ রেঞ্জের অধীনস্থ আনন্দ জেলার লম্ভবেল গ্রামের বাসিন্দা তরুণ পটেল তাঁর স্ত্রী কাজলকে ফেরত না পাঠানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় কারণ ওই যুবকের দাবি তাঁর স্ত্রী সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং এই অবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে চরমপন্থীদের হাতে তাঁর জীবনহানি ঘটতে পারে।

পুলিশ সূত্রের খবর গুজরাত জুড়ে বর্তমানে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে অপারেশন ডেল্টা হান্ট নামের একটি রাজ্যব্যাপী বড়সড় অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ কাজলকে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে আটক করে। রাজ্য পুলিশ নির্দেশনালয় বা ডিজিপি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি মাসে এখনও পর্যন্ত সমগ্র গুজরাত থেকে ছয়শোর বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে যার মধ্যে আনন্দ জেলা থেকেই ধরা পড়েছেন প্রায় ষাট জন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লম্ভবেল গ্রামের তরুণ পটেল জানিয়েছেন যে ২০১২-১৩ সাল নাগাদ ফেসবুকে কাজলের সঙ্গে তাঁর প্রথম আলাপ হয়। সেই সময় কাজল বাংলাদেশে থাকতেন এবং দুই জনের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। আইন মেনে বিয়ে করার জন্য কাজল বাংলাদেশে পাসপোর্ট তৈরির বহু চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু কোনও কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরিবারের চাপে অন্য কোথাও বিয়ে করতে রাজি না হয়ে অবশেষে কাজল অবৈধ পথেই ভারতে চলে আসেন এবং আনন্দের লম্ভবেল গ্রামে তরুণের কাছে পৌঁছান। ভারতে আসার পর তাঁরা হিন্দু রীতিনীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাঁদের আট বছর ও দুই বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।

Advertisement

তরুণ পটেল আরও জানান যে তাঁর স্ত্রী নিয়মিত মন্দিরে যেতেন এবং সম্পূর্ণ সনাতন জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমানে কাজলকে একটি মহিলা আশ্রয় হোমে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা নির্বাসনের আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গুজরাতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সঙ্ঘবীর কাছে মানবিকতার খাতিরে আবেদন জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন যে তাঁর স্ত্রী শুধুমাত্র ভালোবাসার টানেই বেআইনিভাবে ভারতে এসেছিলেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে কোনও আইনি প্রক্রিয়া মানতে তাঁরা প্রস্তুত।

মায়ের থেকে দূরে থাকা তাঁদের আট বছরের বড় ছেলে ধ্যানও প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছে যাতে তার মাকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয় কারণ মায়ের অভাব তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার জিজি জসানি কোনও মন্তব্য করেননি এবং আহমেদাবাদ রেঞ্জের আইজি রাঘবেন্দ্র বৎস জানিয়েছেন যে তিনি আনন্দ জেলার এসপির কাছ থেকে পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়ার পরেই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement