SIR-এর প্রয়োজনীয় নথি নেই, মালদায় আতঙ্কে বিষপান করে আত্মঘাতী মহিলাস্ত্রীর নামে ‘সার’ (SIR) সংক্রান্ত শুনানির নোটিস আসার পর চরম আতঙ্কে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার এলাকায় ঘটে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভে শুনানিকেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
মৃত ব্যক্তির নাম চান্দু সরকার (৫১)। তিনি ইটাহারের পতিরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরালিপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে ভিন্রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন চান্দু। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী জিন্নাতুন বিবির নামে সার-এর শুনানির নোটিস আসে। পরিবার সূত্রে দাবি, সেই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালেই স্ত্রীর সঙ্গে ইটাহার হাইস্কুলে থাকা শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার কথা ছিল চান্দুর। কিন্তু সকালে তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন পরিবারের লোকজন। পরে বাড়ির কাছেই একটি বাগান থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ইটাহার হাইস্কুলে থাকা শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, ওই সময় টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় শুনানির কাজ।
খবর পেয়ে ইটাহার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিরাপত্তা বাড়িয়ে আবার শুনানির কাজ শুরু করা হয়।
এরপর মৃতদেহ নিয়ে ইটাহার চৌরাস্তায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন ও তাঁর অনুগামীরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মৃতের দাদা মুকলেশ সরকার বলেন, স্ত্রীর নাগরিকত্ব থাকবে কি না—এই আশঙ্কাতেই তাঁর ভাই চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, সেই ভয় থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিধায়ক মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিজেপির ইশারায় নির্বাচন কমিশনের চাপের ফলেই এই আত্মহত্যা। যদিও ইটাহারের বিডিও দিব্যেন্দু সরকার জানান, শুনানির আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।