Kaliachak Sujapur Crime News: কালিয়াচকে জানালা দিয়ে মশারি কেটে খুন যুবক! স্ত্রীর চিৎকারে পালাল দুষ্কৃতীরাKaliachak Sujapur Crime News: মালদা জেলার কালিয়াচক থানার সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাষপাড়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘরের ভেতর নিজের বিছানায় অঘোরে ঘুমোনোর সময় এক প্লাস্টিক ব্যবসায়ীকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যবসায়ীর নাম রহিমুল শেখ এবং তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র তিরিশ বছর। রহিমুল পেশায় প্লাস্টিকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি সুজাপুরের একটি ধর্মকাঁটায় ম্যানেজারের কাজও করতেন। মাত্র দু বছর আগে মুস্তান খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের ঘরে একটি সাত মাসের কন্যাসন্তানও রয়েছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো একই বিছানায় পাশে স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকলেও তিনি এই খুনের ঘটনা টের পাননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। রহিমুলের স্ত্রী মুস্তানের একের পর এক অসংলগ্ন কথাবার্তায় তীব্র সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার সময় পুলিশ ঘরের ভেতরে বেশ কিছু রহস্যজনক বিষয় লক্ষ্য করেছে। পুলিশ দেখতে পায় যে বিছানার মশারির একদিকের অংশটি একদম গোল করে নিখুঁত মাপে কাটা রয়েছে এবং যে বিছানায় রহিমুলের নিথর দেহ পড়েছিল ঠিক তার পাশেই রয়েছে একটি লোহার গ্রিল দেওয়া বড় জানালা। আটক হওয়ার আগে মৃতের স্ত্রী মুস্তান খাতুন পুলিশকে জানান যে ক্লান্ত হয়ে রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে রহিমুল খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন এবং কারও সঙ্গে বিশেষ কোনো কথাও বলেননি। মুস্তানের দাবি অনুযায়ী রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ আচমকা স্বামীর গোঙানি ও চিৎকারে তাঁর ঘুম ভেঙে যায় এবং ঘরের আলো জ্বালাতেই তিনি দেখেন যে গোটা বিছানা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানালা দিয়ে তিনজনকে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উঁকি মারতে দেখেন এবং চিৎকার শুরু করতেই সেই দুষ্কৃতীরা নাকি অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। অন্য দিকে ভাইয়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন রহিমুলের দাদা মহম্মদ বাবলু শেখ। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ভাইকে কেন এইভাবে খুন করা হলো তা তাঁদের মাথায় ঢুকছে না কারণ রহিমুলের কোনো টাকা পয়সার অভাব ছিল না এবং পরিবার বা পাড়া প্রতিবেশীদের কারও সঙ্গে কোনোদিন কোনো অশান্তিও ছিল না।
রহিমুলের খুন নিয়ে ধোঁয়াশা ক্রমাগত বাড়ছে এবং পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এই ঘটনার পেছনে মৃতের স্ত্রীর কোনো বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের যোগসূত্র থাকতে পারে। গভীর রাতে পাশে স্বামীকে নির্মমভাবে খুন করা হচ্ছে অথচ সঙ্গে শুয়ে থাকা স্ত্রী কোনো কিছু টের পেলেন না এই অদ্ভুত দাবিটি তদন্তকারীদের একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না। মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং এই ঘটনায় জানিয়েছেন যে সুজাপুরের এই খুনের ঘটনায় সত্য আড়াল করার এক মরিয়া চেষ্টা চলছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে সব দিক খোলা রেখে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালাচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে জোর তল্লাশি শুরু করেছে।