কালিয়াগঞ্জের মাদ্রাসায় নাবালিকা ছাত্রীকে হোস্টেলে নির্যাতনের অভিযোগ, ধৃত প্রধান শিক্ষকনাবালিকা ছাত্রীকে দীর্ঘ দিন ধরে অকথ্য নির্যাতনের এক মারাত্মক অভিযোগ উঠল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম আব্দুল রশিদ যিনি কালিয়াগঞ্জ থানার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর আইনি ফাঁদ এড়াতে বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েছিলেন তিনি তবে সেখানে শেষরক্ষা হলো না এবং তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সেশন জাজ কোর্টের বিচারক সমস্ত দিক বিবেচনা করে অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণে জানা গিয়েছে যে ভুক্তভোগী নাবালিকাটি নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং সে পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো হওয়ায় তাকে দীর্ঘ এক বছর যাবৎ ওই মাদ্রাসার হোস্টেলে রেখে পড়াশোনা করানো হচ্ছিল। মেয়েটির বাবা ও মা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং তাদের অনুপস্থিতিতে ইটাহার থানার বাসিন্দা দাদুই নাতনির স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। হোস্টেলে থাকার সুযোগ নিয়ে ওই নাবালিকার ওপর দিনের পর দিন অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল রশিদ। অন্যান্য ছাত্রীদের অনুপস্থিতির সুযোগ বুঝে তিনি জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে লিপ্ত হতেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী নাবালিকার পরিবারের দাবি অনুসারে দীর্ঘ এক বছর ধরে এই অসহ্য ও বিভীষিকাময় যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করেছে ওই অসহায় ছাত্রীটি।
শেষ পর্যন্ত নাতনির মুখ থেকে এই সমস্ত নির্মম ও পাশবিক ঘটনার কথা শোনার পর গত ১৫ জুন কালিয়াগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার বৃদ্ধ দাদু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে নাতনির মুখ থেকে সমস্ত বিষয় জানার পরেই তিনি থানায় গিয়েছেন এবং তিনি চান এই জঘন্য অপরাধের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষকের যেন দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই সমগ্র এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও আইনি চাপ আঁচ করতে পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নিজে থেকেই রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন এবং বিচারক তাকে সরাসরি জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে ধৃত অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো বা পক্সো আইনে অত্যন্ত কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে খুব শীঘ্রই আদালতে আবেদন জানানো হবে। বর্তমানে নির্যাতিতা নাবালিকা ছাত্রীটি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির পক্ষ থেকে মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সমস্ত রকম আইনি ও সামাজিক সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন জঘন্য ও পাশবিক আচরণ সমাজকে আজ নতুন করে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।