মোটা টাকা গচ্চা দিয়ে বিল মেটানো অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাExcessive Electricity Bill Case: এক লাখ টাকার উপরে বিদ্যুতের বকেয়া বিল মেটাতে নিজের নয় শতক জমি বিক্রি করতে হল এবং আরও কিছু জমি লিজ দিতে বাধ্য হলেন কুমারগঞ্জ ব্লকের ধাদলপাড়া বড়িপুকুর এলাকার দরিদ্র আদিবাসী বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন উঠছে বিদ্যুৎ দফতরের বিল নির্ধারণ পদ্ধতি ও আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে।
কুমারগঞ্জ বিজেপির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে অমানবিক বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। এ বিষয়ে কুমারগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের স্টেশন ম্যানেজার নাজমুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি, অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেব।' দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আরেক বিদ্যুৎ আধিকারিক শুভময় সরকার জানান, 'ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
জানা গেছে, কৃষিজীবী বৃদ্ধ বিশান হেমরম ও তাঁর স্ত্রী সীতা বাস্কে প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন। কারণ হিসেবে দেখানো হয় বিদ্যুতের বকেয়া বিল। অথচ তাঁদের দাবি, এর আগে একাধিকবার বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা এসে বিল তুলতে পারেননি। বলা হয়েছিল মিটারে সমস্যার কারণে বিল বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
দশ বছর আগে ইন্দিরা আবাস যোজনায় পাওয়া তাঁদের দু’টি টিনের ঘরে আজও প্লাস্টার নেই, নেই চৌকি বা খাট।এই চরম শীতের রাতেও মেঝেতে চাদর বিছিয়ে ঘুমোতে হয় বৃদ্ধ দম্পতিকে। এমনই পরিস্থিতিতে বরাহার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে দফতরের তরফে জানানো হয়, তাঁদের পাঁচ বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৭৩ হাজার টাকা এবং তার উপর সুদ বাবদ আরও ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এক লক্ষ সাত-আট হাজার টাকার দাবি করা হয়।
অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি শেষ পর্যন্ত নয় শতক জমি বিক্রি করে ও কিছু জমি লিজ দিয়ে মঙ্গলবার এক লক্ষ দশ হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যান। তাঁদের দাবি, দফতর থেকে প্রায় এক লক্ষ তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের হাতে থাকা তিনটি রসিদ মিলিয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ৯৮,৩৪০ টাকা। তাহলে বাকি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা গেল কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও প্রশ্ন উঠছে, যে বাড়িতে মাত্র দু’টি বাল্ব জ্বলত এবং একটি টিভি চলত, সেখানে পাঁচ বছরের বকেয়া বিল ৭৩ হাজার টাকা কীভাবে হল এবং সুদই বা ৩৫ হাজার টাকা ধার্য করা হল কোন পদ্ধতিতে। মঙ্গলবার এক লক্ষ তিন হাজার টাকা জমা দেওয়ার পরে সেদিন বিকেলেই বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে গেছে বাড়িতে।