SIR শুনানি ঘিরে উত্তাল কুমারগঞ্জ, বিডিও অফিসে ভাঙচুর-হামলা, প্রাণভিক্ষার ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হলেও, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা শুনানিকক্ষের ভেতরে ঢুকে মাইক্রো অবজারভার দিব্যেন্দু গড়াই এবং কৃষি দপ্তরের কর্মী দিলীপ লাকড়ার উপর চড়াও হন।

Advertisement
SIR শুনানি ঘিরে উত্তাল কুমারগঞ্জ, বিডিও অফিসে ভাঙচুর-হামলা, প্রাণভিক্ষার ছবি ঘিরে চাঞ্চল্যSir হিয়ারিং

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) শুনানি শিবিরকে ঘিরে চরম উত্তেজনার ছবি সামনে এল দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে। শনিবার বিকেলে কুমারগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হন দুই সরকারি আধিকারিক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, এক আধিকারিক হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইছেন, এমন চাঞ্চল্যকর ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিডিও অফিস সংলগ্ন আইসিডিএস ভবনে জাখিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২২, ১২৩ ও ১২৫ নম্বর বুথের ভোটারদের এসআইআর শুনানি চলছিল। অভিযোগ, প্রায় ২০০ জনের বেশি আবেদনকারীর নথিতে ‘নো ম্যাচিং’ লেখা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্তে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হলেও, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা শুনানিকক্ষের ভেতরে ঢুকে মাইক্রো অবজারভার দিব্যেন্দু গড়াই এবং কৃষি দপ্তরের কর্মী দিলীপ লাকড়ার উপর চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে এক আধিকারিক প্রাণভিক্ষা চাইতে বাধ্য হন। খবর পেয়ে বিডিও নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং আহত আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিজের চেম্বারে নিয়ে যান।

ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। জেলা বিজেপি সম্পাদক রজত ঘোষ অভিযোগ করেন, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরিকল্পিতভাবেই পর্যবেক্ষকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের বক্তব্য, অযৌক্তিকভাবে ‘নো ম্যাচিং’ দেখিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কুমারগঞ্জে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা ছড়ায়।

POST A COMMENT
Advertisement