হাতির ভয়, মাধ্যমিকের জন্য জলদাপাড়া-খড়িবাড়িতে গ্রিন করিডরমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ ও কার্শিয়াং বনবিভাগ। বিপজ্জনক বনাঞ্চলের রাস্তা পেরিয়ে যাতে কোনও ঝুঁকি ছাড়াই পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য ৪০০ জন বনকর্মী নামানো হয়েছে বিশেষ দায়িত্বে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০টি গাড়িতে করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বিপজ্জনক বনাঞ্চলের রাস্তা জুড়ে চলছে লাগাতার পেট্রোলিং। পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে গ্রিন করিডর, যাতে বন্যপ্রাণী বা অন্য কোনও ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।
একই ধরনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকায়। যেখানে হাতির একাধিক করিডর রয়েছে। সম্প্রতি টুকরিয়াঝাড় জঙ্গল ও বুড়াগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় বুনো হাতির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন অভিভাবকেরা। সেই উদ্বেগ কাটাতে খোদ বনদপ্তরই কোমর বেঁধে মাঠে নামল। হাতি অধ্যুষিত এলাকার ১১৪১ জন পরীক্ষার্থীর জন্য শুরু হলো বিশেষ বাস পরিষেবা এবং কড়া বনকর্মী টহল।
খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জ ও টুকরিয়াঝাড় বনবস্তি এলাকা মূলত হাতি-প্রবণ অঞ্চল। জঙ্গলের পথ পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কা থাকে। এই ঝুঁকি এড়াতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বনকর্মীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেই বাসে করেই পরীক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং পরীক্ষা শেষে আবার নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
শুধু বাস পরিষেবাই নয়, উত্তরবঙ্গের জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বনদফতরের বিশেষ মোবাইল টিম। পরীক্ষার শুরু এবং শেষের সময়টিতে যাতে কোনো হাতি লোকালয় বা রাস্তায় চলে না আসে, সে জন্য আগাম টহল দিচ্ছেন বনকর্মীরা।