মালদায় SIR কেন্দ্রে যাওয়ার পথে টোটো উল্টে মৃত স্ত্রী-শিশু, মর্গে রেখে স্বামী গেলেন শুনানিতেMalda Accident Death: মর্গে পড়ে রয়েছে স্ত্রী ও ৯ মাসের কোলের শিশুর নিথর দেহ। চলছে ময়নাতদন্ত। সেই গভীর শোক বুকে চেপেই ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে হাজির হলেন এক শিক্ষক। শুক্রবার সকালে মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সেই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত অনেকেই।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানার সুস্থানি মোড় এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম হালিমা খাতুন (২৮) এবং তাঁর ৯ মাসের পুত্র আরিফ হাসান। দুর্ঘটনায় বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন হালিমার স্বামী মহম্মদ ইয়াসিন আনসারি। তিনি পেশায় সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসার আরবি বিভাগের শিক্ষক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইয়াসিনের বাড়ি গাজোলের খড়দৈল এলাকায়। হালিমার বাপের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার অন্তর্গত। কর্মসূত্রে দম্পতি সুজাপুরের হাসপাতাল মোড় এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের জন্য তাঁদের দু’জনকেই শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর সপরিবারে টোটো করে মালদা শহরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সুস্থানি মোড় এলাকায় একটি লরি টোটোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। লরির ধাক্কায় টোটোটি উল্টে যায়। ছিটকে পড়েন ইয়াসিন, হালিমা ও তাঁদের শিশু সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার করে তিনজনকেই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা হালিমা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল ৯ মাসের আরিফকে। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হয় শিশুটিরও।
এক লহমায় সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসেননি ইয়াসিন আনসারি। শুক্রবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানের দেহ মর্গে রেখেই চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি হাজির হন ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।