
বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বণ্টন ঘিরে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার ফেটে পড়ল মালদহ জেলার চাঁচলে। কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই রবিবার বিকেলে তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা এলাকা। আনজারুল হক জনিকে প্রার্থী করার দাবিতে অনড় একদল কর্মী-সমর্থক হতাশায় ভেঙে পড়েন। প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহেবুবের নাম প্রার্থী হিসেবে আসতেই শুরু হয় দফায় দফায় ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ। ২০২৬-এর এই মহারণের আগে কংগ্রেসের এই কোন্দল যে দলের অন্দরেই বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন শৃঙ্খলার ওপর টিকে থাকে, কংগ্রেসের এই বিশৃঙ্খলা ঠিক তেমনই দলের ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।
বিক্ষোভের আঁচ এতটাই তীব্র ছিল যে, চাঁচলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত কর্মীরা। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ের সামনে তরলতলা মোড়ে আসবাবপত্র ও টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের তির সরাসরি জেলা সভাপতি ইসা খানের দিকে। তাঁদের দাবি, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই মোটা টাকার বিনিময়ে আসিফ মেহেবুবকে প্রার্থী করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ নেতা আনজারুল হক জনি স্পষ্টই অভিযোগ তুলেছেন যে, জেলা নেতৃত্বের একাংশ তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ মসৃণ করতেই এই নক্কারজনক সমঝোতা করেছেন। ২০ Esk৬-এর এই তপ্ত রাজনৈতিক আবহে এই অভিযোগ মালদহের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ নিয়ে জেলা কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলীয় প্রার্থী আসিফ মেহেবুব পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, "একাধিক দাবিদার থাকলে অসন্তোষ থাকাই স্বাভাবিক। আমি সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করব।" কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। চৈত্র শেষের এই রাজনৈতিক প্রচারের হুল্লোড়ের মাঝেই চাঁচলের এই গৃহযুদ্ধ এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম চর্চার বিষয়।