মালদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানই বাংলাদেশি?মালদায় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানই নাকি বাংলাদেশি নাগরিক! আর এই প্রধান নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিল এই ভাবেই বাংলাদেশিদের প্রশ্রয় দিয়েছে এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়ছে বিতর্ক।
জানা গিয়েছে, ওই পঞ্চায়েতে মোট আসন সংখ্যা ২০টি। শেষ নির্বাচনে কংগ্রেস পায় দশটি আসন। বিজেপি তিনটি আসন পায়। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল ৫টি আসন ও নির্দল পেয়েছিল ২টি। ফলে দেখা যাচ্ছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল কংগ্রেস।
বিধানসভা নির্বাচন পেরোতেই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ডাকা হয়। প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের চেমিনি বিবি। এই চেমিনি বিবির বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণ মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে মালদহ জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত করছে মালদহ জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের তালিকায় তাঁর নাম বিবেচনাধীন, তিনি কিভাবে প্রধান হন?
কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েতে সদস্য কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন,বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের বাসিন্দ চেমিনি বিবি। তাঁর বাবা এখনও বাংলাদেশে বসবাস করেন। বিবাহ সূত্রে তিনি এদেশে এসেছেন। তাঁর কাছে দুই দেশেরই ভোটার কার্ড আছে।
যদিও চেমিনি বিবি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। এবিষয়ে চেমিনি বিবির স্বামী বিশু মিঞা বলেন, "আমাদের বিয়ে হয়েছে ২০০৬ সালে। আমরা এদেশের নাগরিক। এই বিষয় নিয়ে আমরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমার স্ত্রী হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। "
মালদা জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, "তদন্ত শুরু হয়েছে ঘটনার। চেমিনি বিবির বেশ কিছু ডকুমেন্টে গরমিল রয়েছে। তাঁর বাবা রফিক বাংলাদেশের নাগরিক। কলকাতা হাইকোর্টে পিটিশন জমা করেছেন। আমরা নজর রাখছি হাইকোর্টে নির্দেশের উপরে।"
মালদা দক্ষিণের বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। উনি বাংলাদেশি হলে ওনাকে পুশব্যাক করা হবে।