Malda Road Blocket Extortion Civic Volunteer: চাষির পথ আটকে ‘তোলাবাজি’ সিভিকদের, রণক্ষেত্র হবিবপুরসরষে ঝাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন চাষি। অভিযোগ, মাঝপথে পথ আটকে দাঁড়াল চার সিভিক ভলান্টিয়ার। দাবি একটাই, টাকা দিতে হবে, না দিলে এগোবে না থ্রেসার মেশিন। খোদ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এমন ‘তোলাবাজি’র অভিযোগে সোমবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হবিবপুরের রাইস মিল এলাকা। পুলিশের দাদাগিরির প্রতিবাদে সরব হয়ে মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের পদস্থ কর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ ওঠে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে হবিবপুর রাইস মিল এলাকার বাসিন্দা জয়দেব পান্ডে নামে এক চাষি তাঁর জমির সরষে কাটার জন্য একটি থ্রেসার মেশিন নিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় কর্তব্যরত চার সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁর গতিরোধ করে এবং বেআইনিভাবে টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই চাষিকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনাক্রমে, সেই সময় ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন বিজেপির দুই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। চাষির মুখে হেনস্তার কথা শুনে তাঁরা সিভিকদের কাছে কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দারা একজোট হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়ক আটকে শুরু হয় বিক্ষোভ। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুখীরানি সাহা এবং স্থানীয় বিধায়ক জোয়েল মুর্মু। সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের এই ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। অন্যদিকে, বিধায়ক জোয়েল মুর্মু সরাসরি পুলিশি ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলে বলেন, “হবিবপুর হাটে পুলিশের একাংশ নিয়মিত টাকা তোলে। সিভিকরাও এখন পাল্লা দিয়ে তোলাবাজি শুরু করেছে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে শাস্তি চাই।”
হবিবপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।