Malda NIA Team Investigation: বিচারকদের বন্দির ঘটনার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র? NIA-র তদন্তে সামনে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য (ফাইল ছবি)Malda NIA Team Investigation Report: ভোটের আবহে মালদার কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের পণবন্দি করার ঘটনাটি নিছক কোনও আকস্মিক উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা ছিল না। এর নেপথ্যে কাজ করেছে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-র প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই ঘটনার পিছনে কোনও এক উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের সক্রিয় ও গোপন হাত রয়েছে, যারা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই ছক কষেছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে এক অভিনব ও পরিকল্পিত কৌশলের কথা। জনতাকে খেপিয়ে তুলতে এবং ভিড় জমাতে ব্যবহার করা হয়েছিল টোটো বা ই-রিকশা। মাইক বেঁধে টোটোয় চড়ে এলাকায় ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়েছিল। NIA মনে করছে, বিশাল জমায়েত তৈরি করে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করাই উদ্দেশ্য ছিল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এনআইএ-র আইজি-র তত্ত্বাবধানে এসপি এবং ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারদের নিয়ে দুটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের আতসকাঁচের নীচে এখন মালদা ও মুর্শিদাবাদে ঘটে যাওয়া পুরনো হিংসার ঘটনাগুলিও। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, এই সব কটি ঘটনার সুতো কি একই চক্রের হাতে বাঁধা? অশান্তির এই জাল যে কেবল বাংলার সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর শিকড় অনেক দূরে ছড়িয়ে রয়েছে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সংস্থা। কোথায় কোথায় এই সূত্র গাঁথা রয়েছে, সেদিকেও নজর রাখছেন তাঁরা।
রহস্যের জট খুলতে এখন ভরসা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। গোয়েন্দারা প্রতিটি ক্যামেরার ফরেনসিক অডিট করাচ্ছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার সময় অনেক স্পর্শকাতর এলাকার সিসিটিভি কাজ করছিল না। আদালতের রিপোর্টেও এনআইএ এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে, যা বড়সড় ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করে। এই ষড়যন্ত্রের রিমোট কন্ট্রোল কোথায়? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তের পরিধি এবার বিহার ও ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। অর্থাৎ, মালদহের এই ঘটনা স্রেফ একটি হিংসাত্মক অধ্যায় নয়, বরং এক সুদূরপ্রসারী সংগঠিত চক্রান্তের অংশ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।