স্ত্রীকে খুন করে লাশ নিয়ে সংসার, নিজেই থানায় ফোন স্বামীর; শিলিগুড়িতে রবিনসন কাণ্ডের ছায়াSiliguri Wife Murder Case: এ যেন হুবহু কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি, স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর লাশের সঙ্গেই কাটালেন গোটা রাত। পচন ধরা দেহ ঘরে রেখেই চলল স্বাভাবিক কাজকর্ম। এরপর নিজেই পুলিশকে ফোন করে দিলেন খুনের কবুলনামা। শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়া থানার শিবমন্দির এলাকার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত স্বামী অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে মালদা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, সম্ভবত দু-তিন দিন আগেই ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। ছেলেকে মালদার দিদিমার বাড়িতে রেখে পালানোর ছক কষলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে মালদা থেকেই তাঁকে পাকড়াও করে। কেন এই নৃশংস খুন? নেপথ্যে কি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নাকি অন্য কোনও বিবাদ। তা খতিয়ে দেখছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার সকালে মাটিগাড়া থানায় একটি উড়ো ফোন আসে। ওপার থেকে এক ব্যক্তি শান্ত গলায় বলেন, ‘আমি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলছি। স্ত্রীকে খুন করেছি। লাশ ফ্ল্যাটেই আছে, উদ্ধার করে নিন। আমি ছেলেকে নিয়ে মালদায় রেখে আসতে যাচ্ছি।’ এমন ফোন পেয়েই তড়িঘড়ি শিবমন্দিরের হালের মাথার ওই অ্যাপার্টমেন্টের চারতলায় হানা দেয় পুলিশ। ঘরের দরজা খুলতেই নাকে আসে তীব্র পচা দুর্গন্ধ। দেখা যায়, বিছানায় কম্বল জড়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে দেবলীনা বন্দ্যোপাধ্যায় (৪২) নামে এক মহিলার নিথর দেহ। মৃতদেহে পচন ধরেছে।
মৃত দেবলীনা দেবী পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। অন্যদিকে অনিন্দ্য একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে কর্মরত। তাঁদের ১১ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অন্তত দু-তিন দিন আগে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন অনিন্দ্য। খুনের পর পালানোর বদলে লাশের সঙ্গেই দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান তিনি, যা দেখে পুলিশের ধারণা ধৃতের মানসিকতায় গভীর বিকৃতি রয়েছে।