
Annapurna Bhandar Money Status 2026: সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না ঢোকার জেরে চরম উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভায়। ক্ষুব্ধ উপভোক্তাদের বিক্ষোভের জেরে পুরভবন চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। শুধু তাই নয় উত্তেজনার পারদ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্রুদ্ধ জনতার রোষের মুখে পড়তে হয় খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনীকে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে আন্দোলনকারীদের একাংশ চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম ছুড়তে শুরু করে। ডিমের হাত থেকে বাঁচতে প্রভাতবাবু নিজের ঘর থেকে কোনওমতে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।
শুক্রবার মেখলিগঞ্জ শহর এলাকার এক বিশাল সংখ্যক মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের বকেয়া টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুরসভা কার্যালয়ে চড়াও হন। তাঁরা সরাসরি চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনীর চেম্বারে ঢুকে ক্ষোভ উগরে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি কথা বলার মাঝেই আচমকা উপস্থিত জনতা চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া শুরু হয়। বেগতিক বুঝে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিজেপির মেখলিগঞ্জ শহর মন্ডল কমিটির সভাপতি আশেকার রহমানও সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। এরই মধ্যে পুরসভার কর্মচারীদের তরফে এক মারাত্মক অভিযোগ তুলে দাবি করা হয়েছে যে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীরা পুরসভার মহিলা কর্মীদের বিবস্ত্র করে ঘোরানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
আন্দোলনকারী দীপক বর্মন ও দীপা সিং সরাসরি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে জানান যে এলাকার মা বোনেরা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করলেও আজ পর্যন্ত কোনও টাকা পাননি। পুরসভায় এসে জানা গেল যে আজ পর্যন্ত সেইসব ফর্মের ডাটা এন্ট্রিই করা হয়নি। বিশেষ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় একশো থেকে দেড়শো জনের নাম পোর্টালে আপডেট করা হয়নি। চেয়ারম্যান আগামী সোমবারের মধ্যে সমস্ত ডাটা এন্ট্রির কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং যদি সোমবারের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে আগামী মঙ্গলবার মা বোনেরা আবারও এখানে এসে বড় আন্দোলনে নামবেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী জানান যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়া না পাওয়ার সাথে পুরসভার চেয়ারম্যানের সরাসরি কোনও প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই। এটা হয়তো অন্য কারও আগে থেকে শেখানো ছিল। মহিলারা যখন এসেছিলেন আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে তাঁদের সাথে মহকুমা শাসকের কথাও বলিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারপরই একদল দুষ্কৃতী এসে গোলমাল পাকায় এবং তাদের নতুন রাজনৈতিক কালচার ডিম থেরাপি প্রয়োগ করে। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি নেতা আশেকার রহমান বলেন যে মেখলিগঞ্জ পুরসভা শুধু নয় রাজ্যের প্রতিটি পুরসভাতেই এমন জনবিরোধী কাজ হচ্ছে। মেখলিগঞ্জে হাতে এক মাস সময় পাওয়ার পরেও এই অভিভাবকহীন পুরসভা চৌদ্দশো ফর্মের ফিল্ড ভেরিফিকেশন ও ডাটা এন্ট্রির কাজটুকু শেষ করতে পারেনি। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় গর্জে উঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। এখন দেখার আগামী সোমবারের ডেডলাইনের মধ্যে মেখলিগঞ্জ পুরসভা এই জটিলতার সমাধান করতে পারে কি না।