মলাদা কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ২ SIR চলাকালীন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদা। সেই সময় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের (বিচারক) বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই ঘটনার তদন্তে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম মৌলানা ইমরান আলি এবং রিঙ্কু শেখ। এমনটাই জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এনআইএ সূত্রে খবর মিলছে, SIR চলাকালীন এপ্রিল মাসে মালদা জেলায় সংঘটিত হিংসা ও বিক্ষোভের ঘটনায় মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই চারটি মামলায় চার্জশিটও জমা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতিও দিয়েছে সংস্থা।
সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, মালদা হিংসার ঘটনায় বর্তমানে মোট ৩৫ জন অভিযুক্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখনও ১২টি মামলার তদন্ত জোরকদমে চলছে।
এনআইএ জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা, জাতীয় সড়ক অবরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই ইমরান আলি ও রিঙ্কু শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অভিযুক্তরা বেআইনি জমায়েতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি SIR কর্মসূচি চলাকালীন হিংসা, ভয় দেখানো ও প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাতেও জড়িত ছিল তারা।
এনআইএর আরও দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর হামলাকারী জনতার মধ্যেও এই দুই অভিযুক্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। আর সেই হামলায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন।
সংস্থার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একটি ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে পুলিশ বাসের এক চালক গুরুতরভাবে আহত হন। মাথায় পাথরের আঘাত লাগায় তিনি বাসের ভিতরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
এই প্রসঙ্গে বলি, সুপ্রিম কোর্টর নির্দেশে এই ঘটনাগুলির তদন্ত শুরু করে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হিংসার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।