ভোট ঘোষণা হতেই রক্তাক্ত দিনহাটা, তৃণমূল নেতাকে ভোজালি কোপানোর অভিযোগPolitical Violence Dinhata: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতে না হতেই বারুদের স্তূপে বসে থাকা দিনহাটা ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল। রবিবার রাতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে রক্তাক্ত হলেন ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭৭ নম্বর বুথের তৃণমূল যুব সভাপতি সায়ন চক্রবর্তী। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের মুখে এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুব নেতাকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই রক্তপাতের ঘটনা সীমান্তবর্তী দিনহাটার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
আহত সায়ন চক্রবর্তীর দাবি, রবিবার রাতে কোনও প্ররোচনা ছাড়াই বিজেপি নেতা দীপেন চক্রবর্তী ও পরিমল বর্মন তাঁর ওপর চড়াও হন। তৃণমূল করার অপরাধেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। সায়নের মা অঞ্জনা চক্রবর্তীর বয়ান অনুযায়ী, বাড়ির সামনে কথা কাটাকাটির সময় আচমকাই ‘ভোজালি’ বের করে সায়নের কোমরে কোপ বসানো হয়। পাড়ার লোকজন ছুটে আসায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, নয়তো তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি এখন মারপিটের রাজনীতি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা কমিটির সম্পাদক অজয় রায় পাল্টা দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে বাজার গরম করতে এবং সহানুভূতি কুড়োতে তৃণমূলই নাটক সাজিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে দিনহাটা থানার পুলিশ। তবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের প্রথম দিনেই এই হানাহানির ছবি সাধারণ ভোটারদের মনেও নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।