SIR ফাইনাল ভোটার লিস্টWest Bengal Voter List 2026: ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হতে চলেছে পোস্ট-SIR নির্বাচনী তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া তালিকায় থাকা মোট ৭.০৮ কোটি নামই এই তালিকায় থাকবে, তবে তিনটি পৃথক শ্রেণিতে ‘Approved’ (অনুমোদিত), ‘Deleted’ (বাতিল) এবং ‘Adjudication/Under Consideration’ (বিচারাধীন/বিবেচনাধীন)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে ধরা হচ্ছে না। কারণ যাচাই-বাছাই ও বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকায় ধাপে ধাপে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের নাম ‘Adjudication’ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে, তাঁদের মামলা নিষ্পত্তি ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ভোটাধিকার থাকবে না। পরবর্তী সম্পূরক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তবেই তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। ‘Deleted’ হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের নামও ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় দৃশ্যমান থাকবে, তবে কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তার নির্দিষ্ট কারণ তালিকায় উল্লেখ থাকবে না। ক্ষুব্ধ বা বঞ্চিত ভোটারদের জন্য পুনর্বহালের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সূত্রের খবর, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যাঁদের যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা ‘Approved’ ট্যাগ নিয়ে তালিকায় থাকতে পারেন। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্ট-নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের কাছে ‘Logical Discrepancy’ সংক্রান্ত যাঁদের মামলা গিয়েছে, তাঁদের নাম ‘Adjudication’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার এই ধরনের পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছেন।
SIR বিজ্ঞপ্তি জারির সময় রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭.৬৬ কোটি। প্রথম দফার সংশোধনের পর মৃত্যু, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেশন বা অচিহ্নিত থাকার কারণে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে। ফলে খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা নেমে আসে ৭.০৮ কোটিতে। দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানিতে ১.৬৭ কোটি ভোটার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে ১.৩৬ কোটি ‘Logical Discrepancy’ এবং ৩১ লক্ষ ম্যাপিং সমস্যার আওতায় ছিলেন।
শুক্রবার থেকে তালিকা মুদ্রণের কাজ শুরু হবে। জেলা শাসক, মহকুমা শাসক দফতর ও রাজ্যের বিভিন্ন বুথে তালিকা পাওয়া যাবে। কমিশনের ওয়েবসাইটেও তা আপলোড করা হবে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ চলছে। তাঁর দাবি, ১.২ কোটিরও বেশি নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। প্রথম পর্যায়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর ‘Logical Discrepancy’-র অজুহাতে আরও ২০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম সরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। যদিও কমিশনের দাবি, এই সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।
২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা প্রকাশ রাজ্যের সাত কোটিরও বেশি ভোটারের যাচাইয়ের একটি চিত্র তুলে ধরবে। বিচারাধীন ভোটাররা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না—এই স্পষ্ট বার্তার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলিও শ্রেণিভিত্তিক তালিকা খতিয়ে দেখবে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।