Dooars Truck Accident Death: ডুয়ার্সে বেপরোয়া লরি, পিষে দিল ৩ জনকে

Dooars Truck Accident Death: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে চা শ্রমিকরা দল বেঁধে বাগানের কাজে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন। সেই সময় বীরপাড়ার দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজনকে পিষে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

Advertisement
ডুয়ার্সে বেপরোয়া লরি, পিষে দিল ৩ জনকেদুর্ঘটনায় মৃত্যু এক শ্রমিকের, জখম ২

বসন্তের সকালেও বিষাদের ছায়া ডুয়ার্সের চা বলয়ে। শনিবার সকালে গয়েরকাটা চা বাগানের বাঁশ লাইনের সামনে এশীয় হাইওয়ে-৪৮-এ এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক প্রবীণ মহিলা চা শ্রমিক। ঘাতক লরির বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল পতনু খাচুয়া (৫৫) নামে ওই শ্রমিকের প্রাণ। এই ঘটনায় আরও দুই মহিলা শ্রমিক গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গয়েরকাটা এলাকা। লরির দৌরাত্ম্য রুখতে ট্রাফিক ব্যারিয়ারের দাবিতে দীর্ঘক্ষণ এশীয় হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে চা শ্রমিকরা দল বেঁধে বাগানের কাজে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন। সেই সময় বীরপাড়ার দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজনকে পিষে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন পতনু খাচুয়া। অন্য দুই শ্রমিক, আফ্রিলা লাকড়া ও রাজকুমারি বাড়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠালেও তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। ধূপগুড়ি-বীরপাড়া গামী এশীয় হাইওয়েতে বসে পড়ে শুরু হয় পথ অবরোধ।

প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের জেরে এশীয় হাইওয়ের দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়ে বহু যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বানারহাট থানার আইসি সুরজ থাপা ও ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম পাল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশি আশ্বাসে সড়ক অবরোধ উঠলেও উত্তেজনার আঁচ কমেনি। শ্রমিকরা পুনরায় গয়েরকাটা ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, এই এলাকায় গতির দাপটে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের নজরদারি নামমাত্র।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘাতক লরিটিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক। পুলিশি আশ্বাসে এবং এলাকায় অবিলম্বে ট্রাফিক ব্যারিয়ার বসানোর কাজ শুরু হওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে একজন সহকর্মীকে হারিয়ে বাগান জুড়ে এখন শোকের আবহ। লরির গতি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ না করলে আগামীতে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনগুলো।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement