
ইংরেজি ক্যালেন্ডারের নতুন বছরের শুরুতেই পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য সুখবর। প্রায় তিন মাস পর বৃহস্পতিবার ফের খুলে দেওয়া হল রোহিণীর রাস্তা। এ দিন থেকেই এই রাস্তায় সমস্ত ধরনের গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের দূরত্ব এক ধাক্কায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে গেল।
শীতের মরশুমে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা এমনিতেই বেশি। তার উপর রোহিণীর রাস্তা খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি পর্যটকরা। একই সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরাও। কারণ এই রাস্তা দিয়ে কার্শিয়াং যাতায়াত শুরু হলে সময় যেমন কমবে, তেমনই যাতায়াতের খরচও অনেকটাই কমবে।ট্যাক্সি চালকদের সংগঠন ‘তরাই চালক সংগঠন’-এর তরফেও প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, রোহিণীর রাস্তা চালু হওয়ায় পর্যটন এবং পরিবহণ দু’ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এখন রোহিণীর রাস্তা খুলে যাওয়ায় পাহাড়মুখী পর্যটকদের সময় ও খরচ দু’টোই অনেকটা সাশ্রয় হবে। এতে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার উৎসাহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা বলেন, “দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই রোহিণীর রাস্তা লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। গত অক্টোবরে ভয়াবহ ক্ষতির পর দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল।”
প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই সময় রোহিণী রোডের প্রায় ৫০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই দিন থেকেই রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় সংস্কারের কাজ। তবে রাস্তা মেরামত করতে সময় লেগে যায় প্রায় তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যটকদের ভরসা ছিল মূলত ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। ফলে যাতায়াতে সময় যেমন বেশি লাগছিল, তেমনই খরচও বেড়েছিল অনেকটাই।