বিহারে ২ পড়ুয়াকে মারধরশিলিগুড়িতে বিহারি ছাত্রদের সঙ্গে মারধর করার অভিযোগ উঠল। নেট মাধ্যমকে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। অভিযুক্ত রজত ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ।
বিহার থেকে পরীক্ষা দিতে শিলিগুড়ি এসেছিল দুই যুবক। তাঁদের মারধর করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, রজত ভট্টাচার্য নামে ওই ব্যক্তি বিহারি যুবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এমনকি গালিগালাজ ও মারধর করতেও দেখা গিয়েছে ওই ব্যক্তিকে। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে,'এ ভাই ওঠে। কোত্থেকে এসেছো? বাংলা বোঝো না। কাঁহাসে আয়ে হো?' উত্তর আসে,'ফিজিক্যাল দেনে আয়ে হে'। রজত তখন বলেন,'বাঙ্গাল কা তো হো নেই। ডোমিসাইল ডকুমেন্ট নিকাল'। এরপরই চড় মারেন রজত। কান ধরে ওঠবোসও করান।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে ব্যক্তি বিহারের ছাত্রদের মারধর করেছে, তাঁর নাম রজত ভট্টাচার্য। তিনি বাংলাপক্ষ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এই সংগঠনটি বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে। বাংলার যুবকদের চাকরি ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রজত ভট্টাচার্য। ধৃতের বক্তব্য,
বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে জাল সার্টিফিকেট নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমাদের ছেলেদের চাকরি ছিনিয়ে নিচ্ছে এরা। ওদের জাল সার্টিফিকেট রয়েছে। তাই আমরা ওদের ধরতে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু SSB-এর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন ওদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
ওদের কাছে জাল শংসাপত্র থাকলেও কি হাত তোলার অধিকার পাওয়া যায়? পুলিশে কেন খবর দেননি? রজত ভট্টাচার্য বলেন,'আমরা তো পুলিশের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। হাতেনাতে ধরে পুলিশে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম। ওদের জাল শংসাপত্র ছিল'।
বিহারের যুবকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। তিনি লিখেছেন,'এই ছেলেরা কি ভারতের অংশ নয়? মমতার সরকার কি শুধু ধর্ষকদের বাঁচাতে চায়? বিহারি যুবককে মারধরের ঘটনার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাংলার মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়,'এ ব্যাপারে আমার কাছে সঠিক তথ্য নেই। তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে পুলিশ গ্রেফতার করবে। বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না'।