Siliguri Municipal Corporation Ward Increase: বাড়ছে জনসংখ্যা, ভারসাম্য আনতে শিলিগুড়িতে পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের কাজ শেষ করে ফেলা হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পুরভোটের বৈতরণী পার করা।

Advertisement
বাড়ছে জনসংখ্যা, ভারসাম্য আনতে শিলিগুড়িতে পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তSiliguri Municipal Corporation Ward Increase: বাড়ছে জনসংখ্যা, ভারসাম্য আনতে শিলিগুড়িতে পুরনিগমের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভোট ঘিরে পাহাড় তরাইয়ের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বৃহত্তম পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের নতুন রোস্টার তৈরির কাজ খুব দ্রুত গতিতে শুরু করেছে প্রশাসন। নবান্ন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একপ্রস্থ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে গিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের কাজ শেষ করে ফেলা হবে।

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পুরভোটের বৈতরণী পার করা। কারণ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্তমান প্রশাসকের মেয়াদ রয়েছে এবং তার আগেই নতুন বোর্ড গঠন করতে চায় নবান্ন। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় তবে আসন্ন ভোটের আগেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে সত্তরটিতে।

বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরনিগমে ৪৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। যার মধ্যে ৩৩টি ওয়ার্ড দার্জিলিং জেলায় এবং ১৪টি ওয়ার্ড জলপাইগুড়ি জেলার প্রশাসনিক এক্তিয়ারে পড়ে। বিগত ১৯৯৪ সালে শিলিগুড়ি পুরসভাকে যখন কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়েছিল তখন তড়িঘড়ি ওয়ার্ডের সীমানা ভাগ করার ফলে জনসংখ্যার কোনও ভারসাম্য রাখা যায়নি। এর ফলে বর্তমানে অর্ধেকেরও বেশি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। যেমন বিশেষ সংশোধনের পরেও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। একই ভাবে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৮ হাজার, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৭ হাজার, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩ হাজারের বেশি এবং ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। অন্য দিকে ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ভোটারের এই বিপুল বৈষম্যের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বড় ওয়ার্ডগুলি ভেঙে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের জোরালো দাবি উঠছে। নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

তৃণমূলের বোর্ড থাকাকালীনই মেয়র গৌতম দেব নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন বড় ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি এবং এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দার্জিলিং মোড়ের ওপারে থাকা মাটিগাড়া ব্লকের চম্পাসারি এবং পাথরঘাটার একটি অংশকে পুরনিগমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সব গ্রামীণ এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ হলেও সেগুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকায় বাসিন্দারা পুরসভার আধুনিক নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ বারবার এই ওয়ার্ড বিভাজনের দাবি তুলেছেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে পূর্বতন বোর্ড একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠালেও তৎকালীন সরকার তা কার্যকর করেনি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে এলাকা পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করতে একটি বিশেষ সমীক্ষা চালানো হবে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর শীঘ্রই এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একটি নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করতে পারে। সেই কমিটির খসড়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও আসন সংরক্ষণের কাজ শেষ করবে।

POST A COMMENT
Advertisement