
মহিলার উপর নির্যাতন, প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে তুলকালাম; জলকামান-টিয়ার গ্যাস পুলিশেরUttarkanya Abhiyan Siliguri: নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের দাবিতে আদিবাসী জনজাতিদের উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হল শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়িতে। বিক্ষোভরত জনজাতিরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলতেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। চালানো হয় জলকামান। তাতে জমায়েত কিছুটা ছত্রভঙ্গ হলেও পরিস্থিতি এখনও রণক্ষেত্র।
উত্তরকন্যা অভিযানের পথে আদিবাসী সংগঠনগুলির জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার ও হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার শিলিগুড়ি শহর থেকে উত্তরকন্যা, রাজ্য সরকারের শাখা সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।
মিছিল এগোতে থাকলে পুলিশ ব্যারিকেড করে তাদের আটকায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। ঘটনায় কয়েক জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে, যদিও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দরজা খোলা রয়েছে। ঘটনার জেরে উত্তরকন্যা চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আদিবাসী পরিবারের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল ও হস্তান্তরের চেষ্টা করে দুই ব্যক্তি। পরিবারটি এর প্রতিবাদ করলে, এক ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলার ওপর নৃশংস শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং গত ৮ জানুয়ারি তিনি অকাল প্রসব করেন। গর্ভাবস্থায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেই জন্মের মাত্র তিন দিন পর নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবিতে এদিন উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেয় আদিবাসী সংগঠনগুলি। অভিযান শুরু হতেই তিনবাত্তি মোড়ের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, এরপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হলে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্র চেহারা নেয়। এ বিষয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ উত্তরকন্যা অভিযানে জবরদস্তি বাধা দিয়েছে। লাঠিচার্জ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা ওই আদিবাসী মহিলার ওপর অত্যাচারের দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।’