Suvendu Adhikari Cabinet Expansion: উত্তরবঙ্গে চাঁদের হাট শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়, আলিপুরদুয়ারে অকাল দীপাবলি! কনিষ্ঠতম মন্ত্রী করণদিঘির বিরাজSuvendu Adhikari Cabinet Expansion: বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে এখন শুধুই পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনই তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডুরা। ইতিমধ্যেই তাঁদের দফতরও বণ্টন হয়ে গিয়েছে। আর সোমবার রাজভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির হাত ধরে আরও ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, শুভেন্দু সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তরবঙ্গকে।
পাশাপাশি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এবার এক নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি করল আলিপুরদুয়ার জেলা। সোমবার কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত মেগা অনুষ্ঠানে এই জেলা থেকে একযোগে তিন-তিনজন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে রাজভবনে শপথ গ্রহণ করলেন। তাঁরা হলেন ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন, কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামা। একই জেলা থেকে একসঙ্গে তিন ভূমিপুত্র মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে এখন কার্যত উৎসবের আমেজ।
আসলে, রবিবার রাতেই নবান্ন ও লোকভবনের তরফে এই তিন বিধায়কের মন্ত্রিত্বের খবর সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল। আর সেই খবর আলিপুরদুয়ারে পৌঁছাতেই খুশির জোয়ার বয়ে যায় গেরুয়া শিবিরে। গভীর রাতেই আলিপুরদুয়ার জেলা শহরের বিজেপি কার্যালয়ের বাইরে কাতারে কাতারে কর্মী-সমর্থক ভিড় জমান। চলে দেদার আতশবাজি ফাটানো এবং আবির খেলা। কার্যত অকাল দীপাবলির পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে। জেলা জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক মিষ্টিমুখ পর্ব। সোমবার সকাল থেকেও আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, কুমারগ্রাম ও কালচিনি এলাকার মণ্ডলে মণ্ডলে উল্লাস চোখে পড়ার মতো ছিল। টেলিভিশনের পর্দায় শপথগ্রহণের দৃশ্য দেখার পর দলীয় কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সের আদিবাসী ও চা বলয়ের উন্নয়ন এবার শুভেন্দু সরকারের হাত ধরে রকেটের গতিতে ছুটবে।
উত্তরবঙ্গ থেকে কেবল এই তিনজনই নন, পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় আনা হয়েছে শিলিগুড়ির হেভিওয়েট বিধায়ক শংকর ঘোষকেও। পাশাপাশি, তুফাঙ্গঞ্জের আদিবাসী নেত্রী মালতি রাভা রায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে জুয়েল মুর্মু, আনন্দময় বর্মন এবং কালচিনির বিশাল লামাকে।
তবে এই সমস্ত চর্চার মাঝেই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির তরুণ বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বিরাজের রাজনৈতিক যাত্রা বেশ ঘটনাবহুল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়ার পর, এবিভিপি-র (ABVP) রাজ্য ও সর্বভারতীয় সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে বিরাজের পরিচিতি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দাড়িভিট আন্দোলনের সময়। শাসকবিরোধী সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে লড়তে গিয়ে তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছিল। তাঁর সেই লড়াকু মানসিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই আজ তাঁকে মন্ত্রিসভায় পৌঁছে দিল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকভবনে শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই সমস্ত নতুন মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সোজা নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আজ বিকেলেই নবান্নে একটি জরুরি এবং উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করবেন যে কার হাতে কোন মন্ত্রকের দায়িত্ব যাচ্ছে।