এ বছর আগেই পাতা তোলা বন্ধ হবে? পর্ষদের সিদ্ধান্তে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চা শ্রমিক-ব্যবসায়ীরাদেশ জুড়ে ৩০ নভেম্বর পাতা তোলা বন্ধ হয়ে যাবে বলে চা পর্ষদের নির্দেশ। চায়ের বাজারে চাহিদা এবং জোগানের সমতা ফেরাতে এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি পর্ষদের। এতে চায়ের দামও বাড়বে বলে আশা তাদের। যদিও উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলির মালিক-শ্রমিক থেকে ক্ষুদ্র বাগানগুলি সবারই মত, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, উত্তরের চা বাগানগুলি ক্ষতির মুখে পড়বে।
এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক চা পর্ষদ, এমনটাই চাইছেন উত্তরবঙ্গের বাগান মালিকরা। চা শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক জিয়াউল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেড়শো বছরের পুরনো শিল্প চা-শিল্প। এমন সিদ্ধান্তের ফলে এটি আরও ধ্বংসের মুখে চলে যাবে। সব জায়গার পরিস্থিতি এক নয়। তাই ইউনিফর্ম সিস্টেম ক্ষতি করতে পারে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির। এক-একটি প্রান্তের বাগানের উৎপাদন এক-এক রকম, উত্তরবঙ্গের অনেক বাগানে জানুয়ারিতেও পাতা আসে। তিনি এই নির্দেশকে, "আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত শিল্পে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে” বলে মন্তব্য করেন।
ইতিমধ্য়েই এই সিদ্ধান্ত যাতে ফের একবার বিবেচনা করে দেখা হয়, সেই দাবি জানিয়ে, তরাই ইন্ডিয়ান প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (TIPA) চিঠি পাঠিয়েছে চা পর্ষদের কাছে। টিপার চেয়ারম্যান মহেন্দ্র বনসল সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত চা শিল্পে বোঝা চাপানোর কাজ করবে। এত দিন ডিসেম্বরের শেষে, পাতা তোলা বন্ধ হত। এ বার এক মাস আগে সে প্রক্রিয়া বন্ধ হলে, অনেক বাগানের খরচ তোলা মুশকিল হয়ে যাবে।
উত্তরবঙ্গের আটটি সংগঠন মিলিত ভাবে পর্ষদকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের ছোট বাগানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় পনেরো লক্ষ বাসিন্দা সমস্যার মুখে পড়বেন। কারণ, ছোট বাগানে এক মাস আগে পাতা তোলা বন্ধ হলে যে রাজস্ব কমবে, তা পূরণ হবে না।
অন্যদিকে বহু বাগান বন্ধ উত্তরবঙ্গে। এই মুহূর্তে পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাই মিলিয়ে মোট ২৫টি বাগান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শেষ ৩ মাসে বন্ধ হয়েছে ৯টি চা বাগান। সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেশের চা শিল্পের আইকন হিসেবে পরিচিত দার্জিলিংয়ের ক্ষেত্রে। সেখানে চলতি বছর বোনাস সমস্যা শুরু হওয়ার আবহে ঝাঁপ পড়েছে ৭টি বাগানে। আগামী ৩০ নভেম্বরের পর থেকে শেষ হতে চলেছে এবছরের উৎপাদনের মরশুম। তার আগে কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে শীতের শুখা সময়ে বন্ধ বাগানগুলি আদৌ খুলবে কি না তা নিয়ে ঘোরতর সংশয় রয়েছে চা মহলে। তার মাঝে নতুন সিদ্ধান্ত মরার উপর খাঁড়ার ঘা তৈরি করতে পারে।