পরীক্ষার চলাকালীন দুই শিক্ষকের মারামারি, বিতর্কে শিলিগুড়ির নামী স্কুল

ঘটনার খবর পেয়ে প্রধাননগর থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছায়। শিক্ষক ত্রিপাঠী ইতিমধ্যেই সরিত মজুমদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
পরীক্ষার চলাকালীন দুই শিক্ষকের মারামারি, বিতর্কে শিলিগুড়ির নামী স্কুলপরীক্ষার চলাকালীন দুই শিক্ষকের মারামারি, বিতর্কে শিলিগুড়ির নামী স্কুল

শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ চিৎকারে থমকে যায় শিলিগুড়ির মার্গারেট সিস্টার নিবেদিতা ইংলিশ স্কুল। পঞ্চম ও নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলার মাঝেই দুই শিক্ষকের মধ্যে বেধে যায় তুমুল হাতাহাতি। এক শিক্ষকের ঘুসিতে আহত হন অন্য শিক্ষক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্কুলে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বালিকা গোলে বলেন, “ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

ঘটনার খবর পেয়ে প্রধাননগর থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছায়। শিক্ষক ত্রিপাঠী ইতিমধ্যেই সরিত মজুমদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিংও জানিয়েছেন, তদন্তে নামা হয়েছে।

ঘটনার পর স্পষ্টতই বিব্রত টিচার ইনচার্জ কল্যাণ দাস। তিনি বলেন, “স্কুলের ভেতরে এমন অশোভন ঘটনা হওয়া দুঃখজনক।” অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানা-পুলিশ ঢুকে পড়ায় আরও উত্তেজনা ছড়ায় ক্যাম্পাসে।

শিক্ষক সন্তোষকুমার ত্রিপাঠীর দাবি, ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে শিক্ষকদের ছুটি সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেই সহকর্মী সরিত মজুমদার তাঁর সঙ্গে রূঢ় আচরণ শুরু করেন। অভিযোগ, সরিত তাঁকে প্রাণে মারার ও তাঁর মেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেন। এদিন কমনরুমে গিয়ে তাঁকে ঘুসিও মারেন এবং আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।

পরীক্ষার সময় কীভাবে স্কুলে এমন ঘটনা ঘটল, এ প্রশ্নে টিআইসি কল্যাণ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান বলেন, “পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আরও কিছু বলতে পারব না।” অভিভাবকদের ক্ষোভ, সরকারি স্কুলে ছাত্র ভর্তিই এখন কঠিন, তার ওপর শিক্ষকদের মারামারি শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করবে।

স্কুলের শিক্ষকেরা মুখ খুলতে না চাইলেও একাংশের মন্তব্য, কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় অশান্তি তৈরি হতে পারে। এতে স্কুলের পড়ুয়া ভর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অভিযোগ নিয়ে সরিত মজুমদার সংবাদমাধ্যমের ফোনের উত্তর দেননি।


 

POST A COMMENT
Advertisement