ভারত-নেপাল সীমান্তে ধৃত থাই যুবতী গ্রেফতারে পাসপোর্ট জালিয়াতির হদিশ, চক্রে কারা?Thailand Girls Arrested At Nepal Border: আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারের আড়ালে এ যেন এক চরম উদ্বেগজনক চক্র! খোদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সরকারি সিল গায়েব করে চলছে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক জালিয়াতি। বুধবার খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কির রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে (ICP) ভারত-নেপাল সীমান্ত পেরনোর সময় এসএসবি (SSB) জওয়ানদের হাতে দুই থাই তরুণী পিমচানোক কেটলা ও চিন্তারা বুদ্ধফং ধরা পড়তেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে। ধৃতদের পাসপোর্টে ইমিগ্রেশনের ‘এগজিট’ সিল মারা থাকলেও আদতে তাঁদের ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গিয়েছিল। জওয়ানদের তীক্ষ্ণ নজরেই ফাঁস হয়ে গেল আন্তর্জাতিক এই বেআইনি অনুপ্রবেশের কারবার (Illegal Immigration Racket)।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের চক্ষু চড়কগাছ। জানা যাচ্ছে, পানিট্যাঙ্কি আইসিপি অফিস থেকে বেশ কয়েক মাস আগেই এন্ট্রি ও এগজিটের একজোড়া সিল রহস্যজনকভাবে চুরি গিয়েছিল। ঘটনার পর তড়িঘড়ি এক আধিকারিককে বদলি করা হলেও, সিল চুরির বিষয়ে কোনও জিডি বা এফআইআর হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন পুলিশকর্তারা। প্রশ্ন উঠছে, সিল চুরি যাওয়ার পর কেন তার নকশা বদল করা হলো না? এর পেছনে কি কোনও বড়সড় প্রভাবশালীকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে? পুলিশের অনুমান, সেই আসল সিল ব্যবহার করেই অথবা সেটির একাধিক নকল নকশা বানিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারত-নেপাল পারাপার করানো হচ্ছিল। এই চক্রের শিকড় এতটাই গভীরে যে, পানিট্যাঙ্কি আইসিপি’র একজন প্রাক্তন এবং একজন কর্মরত আধিকারিকের নামও এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের নিচে।
নেপালে ব্যাগ ফেলে উধাও মূল পাণ্ডা জিতেন্দ্র
এদিকে এই চক্রের মূল পান্ডা, রাজস্থানের বাসিন্দা জিতেন্দ্র মেহেরা ওরফে অভিষেককে খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে পুলিশের। ধৃত থাই তরুণী পিমচানোকের সঙ্গে দিল্লি থেকে বিমানে বাগডোগরায় এসেছিলেন এই জিতেন্দ্র। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল জিতেন্দ্র হয়তো রাজস্থানে গা-ঢাকা দিয়েছেন। কিন্তু ধৃত গাড়ির চালক কুলদীপ শর্মাকে শনিবার ম্যারাথন জেরা করতেই উঠে আসে আসল সত্য। চালক জানান, দুই থাই তরুণী পানিট্যাঙ্কিতে আটক হতেই তিনি জিতেন্দ্রকে সীমান্ত পার করিয়ে নেপালের ভদ্রপুরে ছেড়ে আসেন। সেখানকার একটি হোটেলে আগে থেকেই দু’টি ঘর বুক করা ছিল, যেখানে সকলের ব্যাগপত্র রাখা ছিল। পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগপত্র মিললেও, জিতেন্দ্র সেখান থেকেও চম্পট দিয়েছেন। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আসার পথে বিহার মোড়ে একটি রহস্যময় বাড়িতে ১০ মিনিটের জন্য নেমেছিলেন জিতেন্দ্র, সেই সূত্রটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এই রমরমা কারবার
ধৃত দুই থাই সুন্দরী জেরায় স্বীকার করেছেন, এই জালিয়াতি তাঁদের প্রথমবার নয়। এর আগেও ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর এই চক্রের সাহায্যেই তাঁরা অবৈধভাবে নেপালে ঢুকে থাইল্যান্ডে পাড়ি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি রানিগঞ্জ আইসিপি-র ওসির দায়িত্ব নেওয়া গৌতম বিশ্বাসের কানেও এই বেআইনি পারাপারের খবর এসেছিল। আইসিপি-র তরফে সিল নিয়ে সতর্কবার্তা জারির পরেই তৎপর হন এসএসবি জওয়ানরা এবং বুধবার ধরে ফেলেন এই দুই তরুণীকে। গোয়েন্দাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ভারত ও নেপাল, দুই দেশেরই বড় বড় মাথার পাশাপাশি বাগডোগরার কিছু গাড়িচালক এবং সরকারি কর্মীরাও এই আন্তর্জাতিক চক্রে জড়িত। যদিও তদন্তের স্বার্থে এবং বড় মাছেদের জালে তুলতে দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খারিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য পুলিশকর্তারা এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাইছেন না।