বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, কেন?২০১৪ সাল থেকে বাঘের দেখা না মেলা বক্সায় ফের বাঘ ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্যের বন দফতর। সেই প্রকল্পেরই সূচনা হিসেবে বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে এনে গত ২ অক্টোবর একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। কিন্তু এক মাস না কাটতেই সেই বাঘিনী পালিয়েছে। এই বাঘিনী আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের রায়ডাক নদী পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজ়ার্ভ থেকে হাঁটতে হাঁটতে রায়ডাক, সঙ্কোশ নদী পেরিয়ে পড়শি অসমের কোকরাঝাড়ে, রায়মোনা টাইগার রিজ়ার্ভ এলাকায় ঢুকে পড়েছে বিহার থেকে উড়িয়ে আনা সাড়ে তিন বছরের সেই বাঘিনী। অসমের বনকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলা থেকে স্যাটেলাইট রেডিয়ো কলার পরা একটি বাঘিনী তাদের এলাকায় এসেছে।
বক্সার বাঘিনী আপাতত ঘোরাফেরা করছে রায়মোনা টাইগার রিজ়ার্ভের কাছাকাছি রাজেন্দ্রপুর বনবস্তি এলাকায়। গত দু’দিনে দু’টি গৃহপালিত শুয়োর শিকার করে পেট ভরিয়েছে সে। বাঘিনীর গতিবিধি বুঝতে আপাতত অসম বন দফতরের বিশেষ দল সার্চ অপারেশন ও মনিটরিং করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বক্সা থেকে রাজেন্দ্রপুর যাওয়া ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির বিশেষজ্ঞ ও বক্সার নবগঠিত টাইগার স্কোয়াডের ৪০ সদস্যের দল।
বাঘিনীকে ফেরাতে তৎপর রাজ্য
জানা যাচ্ছে, বাঘিনীকে ফেরাতে বন দফতরের যে দল রয়েছে,তাতে ট্র্যাঙ্কুলাইজার মাস্টারও রয়েছেন। বক্সা টাইগার রিজার্ভের এফডি কুমার বিমল জানাচ্ছেন, 'অসমে দল রয়েছে। বাঘিনীর উপর নজর রাখা হচ্ছে।' পশ্চিমবঙ্গ বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এনক্লোজার থেকে মুক্ত হওয়ার পর বক্সার পঁচিশ মাইল টাওয়ার থেকে ক্রমশ পূর্বদিকে এগিয়েছে বছর তিনেকের বাঘিনী। জয়ন্তী ও চুনিয়া পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সঙ্কোশ নদীর পাড়ে পৌঁছয় সে। নদীর পূর্বপাড়েই রয়েছে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ। ২০২১ সালে টাইগার রিজার্ভের স্বীকৃতি পাওয়ার সময় সেখানে একটি বাঘ থাকলেও বর্তমানে বাঘ-বাঘিনী মিলিয়ে অন্তত ছয়টি বাঘ রয়েছে।
বাংলায় ফেরান হবে: বনমন্ত্রী
ন রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ bangla.aajtak.in-কে জানান, বাঘটি অসমে রয়েছে, তাকে ফেরানোর প্রস্তুতিও চলছে। প্রয়োজনে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করে ফিরিয়ে আনা হবে বাঘটিকে। বনমন্ত্রী বলেন, 'বক্সা, সঙ্কোস, অসম পুরোটা একটা করিডর। সেই কারণেই এখান থেকে বাঘ এসে অন্য জায়গায় চলে যেত। ফলে আমরা যেখানে বাঘকে ছাড়ি সেখান থেকে তো অসমের দূরত্ব আর বেশি নয়। তাই এটা একটি স্বাভাবিক বিষয়।' তাঁর মতে, বক্সা থেকে অসমের দিকে থাকা প্রাকৃতিক বন্যপ্রাণ করিডর ব্যবহার করেই ওই বাঘিনী রাইমোনায় পৌঁছেছে। এটি বাঘের স্বাভাবিক আচরণেরই অংশ।
নভেম্বরে আসছে আরেকটি বাঘ
বক্সায় বাঘের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ২ অক্টোবর একটি বাঘিনী আনা হয়। বন দফতরের পরিকল্পনা, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি পুরুষ বাঘ আনা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে আসবে আরও একটি বাঘিনী। লক্ষ্য, দুটি বাঘিনী ও একটি বাঘের মাধ্যমে বক্সায় নতুন প্রজন্মের জন্ম। নভেম্বরে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বক্সায় আরেকটি বাঘ আসার বিষয় নিশ্চিত করেছেন বনমন্ত্রীও। প্রসঙ্গত, এর আগেও বক্সাতে পর পর দুবছর অসম থেকে বাঘ এসেছিল বলে খবর। সেই বাঘের ছবি ক্যামেরা বন্দিও হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ীভাবে বাঘ কিছুতেই এই বনাঞ্চলে থাকছে না কেন? এই প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে ঘুরছে। তবে আটের দশকে এই বনাঞ্চলে ২০ টি বাঘ থাকার নজির ছিল বলে জানা গিয়েছে।