Weapons Recovered From Medicine Shop: ওষুধের দোকানের আড়ালে আগ্নেয়াস্ত্র-কার্তুজ, হেমতাবাদে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারWeapons Recovered From Medicine Box: উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে পুলিশের এক আকস্মিক অভিযানে পাকড়াও হলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত দুই তৃণমূল নেতা। সোমবার ভোররাতে আচমকা অভিযুক্তদের বাড়ি এবং একটি ওষুধের দোকানে হানা দিয়ে এই সাফল্য পায় পুলিশ। তল্লাশি চালানোর সময় দোকানের ওষুধের বাক্স থেকে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে
পড়ে গোটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম বাবলু মহম্মদ এবং আব্দুল তোয়েব। সম্পর্কে তারা দুই ভাই এবং তাদের বাড়ি হেমতাবাদ থানার বাহারাইল সংলগ্ন পলুয়া গ্রামে। ধৃতদের বিরুদ্ধে নবগঠিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ৩২৯ (৪) ১১৫ (২) ১১৭ (২) ৭৪ ৩৫১ (৩) ধারা এবং নির্দিষ্ট অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। সোমবার দুপুর দুটো নাগাদ অভিযুক্তদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী বাহারাইল এলাকায় ধৃত দুই ভাইয়ের দুটি ওষুধের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার এবং বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচার করার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। রবিবার রাতে গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে যে একটি ছোট ট্রাকে করে আনা বিপুল পরিমাণ মাদক ওই অভিযুক্তদের গোডাউনে মজুত করা হয়েছে। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ভোররাতে হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী অভিযুক্তদের বাড়ি ও ওষুধের দোকানে একযোগে হানা দেয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করে। ধৃত এই দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করা এবং বেআইনিভাবে পুকুর ভরাট করার মতো আরও একাধিক সমাজবিরোধী কাজের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই হাইপ্রোফাইল মামলার বিষয়ে রায়গঞ্জ সিজেএম কোর্টের সরকারি আইনজীবী অতনু দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক অত্যন্ত কড়া এবং জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আদালতের মাননীয় বিচারক সমস্ত দিক বিবেচনা করে দুই অভিযুক্তকেই ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামা জানিয়েছেন দুই ভাইকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং এই বেআইনি অস্ত্র মজুত ও মাদক পাচার চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তা জানতে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতাদের এভাবে অস্ত্র সহ গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।