Nirmala Budget: বাংলাকে বঞ্চনা? লোকসভায় নির্মলা গোনালেন একের পর এক প্রকল্প

Nirmala Budget: অর্থমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে।

Advertisement
বাংলাকে বঞ্চনা? লোকসভায় নির্মলা গোনালেন একের পর এক প্রকল্পNirmala Sitaraman

Nirmala Budget: লোকসভায় বাজেট আলোচনায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাজেটে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর গড়ার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ দাবি করেন, এটি একেবারেই পুরোনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যা পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডানকুনি হয়ে লুধিয়ানা-কলকাতা করিডোরের কথা বলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর জবাবে বলা হয়, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি এবং বর্তমানে ঘোষিত এই করিডোর আলাদা প্রকল্প। মূল লক্ষ্য পূর্ব-পশ্চিম সংযোগে উন্নতি আনা এবং মালবাহী গতিশীলতা বৃদ্ধি করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য প্রস্তাব দিলে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সহজ হবে, বিশেষ করে জুট, লেদার শিল্প ও রপ্তানিতে সুবিধা মিলবে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে গতি আনবে এবং শিলিগুড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

বাজেট আলোচনায় জিএসটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুধ, শিক্ষা, বই, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফিউনারেল এসেনশিয়ালে জিএসটি নেই। পাশাপাশি হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামেও শূন্য হার বজায় আছে। তিনি বিরোধীদের তথ্য বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অর্থমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর ও কলকাতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনাকে তুলে ধরে বলেন, এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী অপরাধ সূচকে রাজ্য নীচের দিকে রয়েছে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

Advertisement

লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, "আমরা এই বাজেটে ডানকুনির কথা উল্লেখ করেছি, কারণ আমরা একটি পূর্ব-পশ্চিম করিডোর চাই যা ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত যাবে। বাংলার নেতারা এতে এতটাই ব্যথিত যে তারা বলছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি এই ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা একেবারেই মিথ্যা। আমি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ঘোষণা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লুধিয়ানা থেকে কলকাতা হয়ে ডানকুনি পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে কিছুই বেরিয়ে আসেনি। আমি যা ঘোষণা করেছি তা নতুন। তাই, সবকিছুতেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।"
 

POST A COMMENT
Advertisement