জলে ডুবে মৃত ফালাকাটার ২ পড়ুয়ারFalakata Schoolboys Drowning: আনন্দ বিষাদে বদলে যেতে সময় লাগে না। স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর জলে হুল্লোড় করতে নামাই কাল হলো দুই খুদের। মঙ্গলবার ফালাকাটার ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সরুগাও চা বাগান এলাকায় ডডুয়া নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হলো দুই স্কুল পড়ুয়ার। নিথর দেহ দুটি উদ্ধার হতেই গোটা চা বাগান এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গিয়েছে, সরুগাও চা বাগানের বড়ো মাঠ এলাকার ছয় বন্ধু এদিন সকালে স্কুল যাবে বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু স্কুলের নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে তাদের মাথায় চাপে ডডুয়া নদীতে স্নান করার নেশা। বাড়ির লোককে অন্ধকারে রেখে তারা পৌঁছে যায় নেপালি বস্তি সংলগ্ন নদীর ঘাটে। ভরা নদীতে স্নান করতে নামার সময় তারা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে জলের তলায় ওঁত পেতে রয়েছে মরণফাঁদ।
নদীতে স্নান করার সময় আচমকাই গভীর জলের টানে তলিয়ে যেতে শুরু করে দুই পড়ুয়া। বাকি চার বন্ধু চোখের সামনে বন্ধুদের তলিয়ে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ভয়ে দিশেহারা হয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে বাড়িতে খবর দেয়। লোক জানাজানি হতেই গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা আর জাল নিয়ে ডডুয়া নদীর পাড়ে ভিড় জমান। খবর দেওয়া হয় জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশকে।
স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টার পর নদী থেকে ছয় বছর বয়সি এক নাবালকের দেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অপরজনের হদিশ মিলছিল না কিছুতেই। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি এনডিআরএফ (NDRF)-কে খবর দেওয়া হয়। দুপুরের পর এনডিআরএফ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি আরও জোরদার করে। বিকেলের দিকে নদী যেন তার গ্রাস করা দ্বিতীয় শরীরটি ফিরিয়ে দেয়।
বিকেল চারটে নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় নাবালকের দেহটি ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুভাষ রায়। পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা এসে স্বজনহারা পরিবারগুলিকে সান্ত্বনা দেন। জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
চা বাগান এলাকায় বারবার স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা এবং বিপজ্জনকভাবে জলাশয়ে নামার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুভাষ রায় জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শিশুদের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। স্কুলে পাঠানোর পর তারা ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ বাকি চার বন্ধুও, যারা মৃত্যুর মুখ থেকে কোনোমতে ফিরে এসেছে।