Vice Chancellor Gourbanga: গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে বরখাস্ত হলেন, অন্তর্বর্তী উপাচার্য পবিত্র চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাতে সরাসরি রাজভবন থেকে আসা ই-মেলে অপসারণের নির্দেশ পৌঁছল বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সি ভি আনন্দ বোসের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, “উপাচার্য নিজেই ই-মেলটি আমাকে ফরওয়ার্ড করেছেন। বলেছেন, তাঁর কাছে যেন আর কোনও ফাইল না পাঠানো হয়।” রেজিস্ট্রারের দাবি, রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে, সেখান থেকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
সমাবর্তন ঘিরে শুরু বিতর্ক
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, উপাচার্যকে রাজ্যপালের দফতর থেকে ২৫ অগস্ট সমাবর্তন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর ধরে গৌড়বঙ্গে কোনও সমাবর্তন না হওয়ায় এই বছর আয়োজনে নানাবিধ প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হয়। উপাচার্যের ব্যাখ্যা, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল ছাত্রছাত্রীদের সার্টিফিকেট ও পদক প্রস্তুত করা সম্ভব নয়—এই কারণেই তাঁরা সময় চেয়ে রাজ্যপালকে আগেই চিঠি দেন।
কিন্তু রাজভবনের মতে, এটি দায়িত্ব এড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়। এই ব্যর্থতাকে কর্তব্যে গাফিলতি হিসেবে গণ্য করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
টাকার বিনিময়ে সুবিধার অভিযোগ
শুধু সমাবর্তন নয়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ, টাকা নিয়ে পড়ুয়াদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল। এমনকী, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলছে বলেও জানা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে এখন চরম অনিশ্চয়তা। কে হবেন পরবর্তী উপাচার্য? দুর্নীতির তদন্ত আদৌ হবে কি? রাজ্য সরকার কী অবস্থান নেয়, সব কিছুই এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব যে বারবার শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে, তাতে দ্বিমত নেই কোনও মহলের।