মমতার জোট বার্তা নিয়ে খোঁচা অধীরের২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০৭ টি আসনে জিতে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। আর এই আবহে নয়া ফর্মুলার পরিকল্পনা করছেন তৃণমূলনেত্রী। গেরুয়া ঝড়ে টালমাটাল পরিস্থিতি সামলাতে বৃহত্তর জোটের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম, কংগ্রেস এবং অতিবাম দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এবার জোট বাঁধার কথা বলছেন তিনি। যা নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।
অধীর চৌধুরী সরাসরি তোপ দেগে বলেন, 'বামদের তাড়ানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন, পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়েছিল। এখন দিদি বিপদে পড়েছেন, তাই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ করে সবাইকে ডাকছেন।' অধীর আরও বলেন, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন তীব্র হতাশায় রয়েছেন।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী দিনের কর্মসূচি ও বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁর টিপ্পনি,'বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা আমরা দেখতে চাই। যদি কেউ যায়, তবেই বোঝা যাবে বাংলার মানুষ তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দিচ্ছে কি না।' সেইসঙ্গে অধীরের খোঁচা, 'রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে তৃণমূল নেত্রীকে।'
#WATCH | Murshidabad, West Bengal: Congress leader Adhir Ranjan Chowdhury says, "... All the violence in Bengal during Mamata Banerjee’s rule will now have consequences. She tried hard to destroy Congress and secular spaces in Bengal, and today she herself is facing punishment,… pic.twitter.com/13nuI5RMfN
— ANI (@ANI) May 10, 2026
অধীর বলেন, 'কংগ্রেস ও ধর্মনিরপেক্ষ দলকে শেষ করেছে তৃণমূল। শান্তি ভুগছে এখন, এখন শক্তি নেই, কংগ্রেসের নাম এখনও নেননি। আগে রাহুল গান্ধীকে INDIA জোটের নেতা মানুন।' আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে অধীর চৌধুরী বলেন, 'দিদি হাজরার মোড়ে দাঁড়িয়ে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটুকু নিশ্চিত, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে।'
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, অভিষেকের বাড়ি এখন মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। মানুষ তাঁর বাড়ি দেখতে যাচ্ছেন। এরপর মমতার বাড়িটাও মিউজিয়ামে পরিণত হবে। অধীন জানান, বিজেপি সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এসে সেগুলি পালন করতে হবে। না হলে তৃণমূল সরকারের মতো বিজেপি সরকারকেও উৎখাত করবে জনতা।
প্রসঙ্গত,৯ মে, অর্থাৎ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী সহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ঐদিনই নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের ডাক দেন মমতা। সেখান থেকেই জোটের বার্তা দেন মমতা। তৃণমূলনেত্রীর কথায়, 'চারিদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। তাই আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং এনজিও-কে বলব যে, সবাই মিলে জোট বাঁধুন। বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা একটা মঞ্চ গড়তে চাই। বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় রাজনৈতিক দল যে যেখানে আছেন, আসুন! আমরা একসঙ্গে জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে দেখা করে কথাও বলতে পারেন। বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, আমি অফিসেই থাকব। মনে রাখবেন, আমাদের প্রথম শত্রু হল বিজেপি।' এর প্রেক্ষিতে রবিবার অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে।