পশু জবাই গাইডলাইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি অধীরের'পশু জবাই' নিয়ে সম্প্রতি একটি গাইডলাইন জারি করেছে রাজ্য সরকার। আর সেই প্রেক্ষিতেই এবার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই গাইডলাইন বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভ্রান্তি ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।
অধীরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসসম্পন্ন বহু গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুসরণকারী মানুষের বাস এখানে। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষত, যারা নির্দিষ্ট প্রথা ও রীতিনীতি মেনে চলেন তাঁদের কাছে বিষয়টি চিন্তাজনক বলে দাবি রেছেন অধীর।
তিনি চিঠিতে প্রস্তাব দেন, জেলা প্রশাসনের উচিত মুর্শিদাবাদের মতো জায়গায় নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত ও নির্ধারণ করা। যেখানে শুধুমাত্র বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে। মানুষ গিয়ে নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথা অনুযায়ী পশু জবাইয়ের মতো রীতিনীতি পালন করতে পারবেন।
কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই বিজ্ঞপ্তির কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সম্প্রদায়গুলো কোনও দ্বিধা ছাড়াই সামাজিক-ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সুযোগ পাবে। জেলার এই অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি নিরসনে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্দেশ দিয়েছে, পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হবে। নির্দেশিকা অনুসারে, কারও কাছে জবাইয়ের সার্টিফিকেট না থাকলে তা করতে পারবেন না। গরুর বয়স অন্তত ১৪ হতেই হবে, পুরসভার জবাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনও জবাইখানায়।