অন্নপূর্ণার টাকা কেন ঢুকছে না? আসানসোলে জেলাশাসকের অফিসে তুলকালাম মহিলাদের

ফের পথে নেমে বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু করলেন অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক অনুদান থেকে ‘বঞ্চিত’ মহিলারা। অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ প্রদানে বিলম্বের প্রতিবাদে আসানসোল জেলা শাসকের কার্যালয়ের বাইরে মহিলারা রাস্তা অবরোধ করেলেন। এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অমীমাংসিত আবেদনপত্র, অর্থ বিতরণে অসামঞ্জস্য এবং নিয়মিত ফান্ডের দাবি।

Advertisement
অন্নপূর্ণার টাকা কেন ঢুকছে না? আসানসোলে জেলাশাসকের অফিসে তুলকালাম  মহিলাদেরপুজোর আগে বাড়ছে অসন্তোষ


রাজ্য-পরিচালিত অন্নপূর্ণা মাসিক আর্থিক সহায়তা যোজনার পেতে বিলম্বের প্রতিবাদে  আসানসোলে বিপুল সংখ্যক মহিলা বিক্ষোভ  দেখালেন। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার কর্তৃক এই বছরের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। এটি পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বিকল্প হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিক্ষোভকারীরা আসানসোল জেলা শাসকের কার্যালয়ের বাইরের  রাস্তা অবরোধ করেন এবং তাদের বিচারাধীন আবেদনগুলো নিষ্পত্তি ও যোগ্য সুবিধাভোগীদের অর্থ প্রদানের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, তাঁরা প্রায় চার মাস আগে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করলেও এখনও টাকা পাননি।

বিক্ষোভকারী মহিলাদের দাবি, কিছু সুবিধাভোগী টাকা পেলেও, বিশেষ করে শ্রমজীবী ​​পরিবারের বেশ কিছু যোগ্য মহিলা এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন। 'আমি চার মাস আগে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু এক টাকাও পাইনি,' বিক্ষোভকারী মহিলাদের একজন বলেন। তিনি আরও জানান,  তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল এবং তাঁর স্বামী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মহিলাটি আরও অভিযোগ করেন, চাকরিজীবীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার এবং শ্রমজীবী ​​শ্রেণির মানুষেরা বাদ পড়ছেন।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন , প্রকল্পের সুবিধাগুলো  সকল যোগ্য সুবিধাভোগী যেন  পান। সাবিত্রী পান্ডে নামে পরিচয় দেওয়া আরেক বিক্ষোভকারী জানান, তিনি আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পেলেও এখন আর টাকা পাচ্ছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের প্রধান দাবি হলো যোগ্য সুবিধাভোগীরা যেন নিয়মিতভাবে প্রকল্পের টাকা পান এবং প্রশাসন যেন ইতিমধ্যে জমা দেওয়া আবেদনপত্রগুলো খতিয়ে দেখে। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু মহিলা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক স্লোগানও দেন। মহিলারা আরও অভিযোগ করেন, তাঁদেরকে জেলা শাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাড়ি ফিরবেন না এবং রাস্তা অবরোধ অব্যাহত রাখবেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললে মহিলারা রাস্তাটি খালি করে দেন। প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী অবরোধের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

 প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণবঙ্গের উলুবেড়িয়া—কোথাও বিডিও অফিস, কোথাও এসডিও দফতর, আবার কোথাও বিধায়ক সেবাকেন্দ্রে তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা। সোমবার আসানসোল ছাড়াও তুফানগঞ্জ, শীতলকুচি থেকে শুরু করে খড়গপুর,  উদয়নারায়ণপুর, মগরাহাট  মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশের ১৩-১৪টি প্রান্তে পথ অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের কুলটিকারিতে একেবারে গেরিলা কায়দায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। গোঘাট-২ নম্বর বিডিও অফিসে বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগরকে সামনে পেয়ে বিক্ষোভ দেখান যোজনা-বঞ্চিতরা। 

প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসাবে পালন করার সঙ্গেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানোর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেদিনই। কিন্তু চতুর্থ মাসের টাকা ছাড়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা বঞ্চিত, এই অভিযোগ তুলেইন বিক্ষোভ-অবরোধে শামিল হচ্ছেন রাজ্যের নানা প্রান্তের মহিলারা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাই পর্বে অযোগ্য উপভোক্তা হিসাবে যাঁদের পাওয়া গিয়েছে, টাকা আটকেছে তাঁদেরই। উপযুক্ত প্রমাণিত হলেই সংশ্লিষ্ট মহিলারা অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা ঢুকবে। চিন্তার কিছু নেই।    

POST A COMMENT
Advertisement