অনুব্রত মণ্ডল ও শতাব্দী রায় -- পিটিআই ফাইল ছবিমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় কেষ্টও এবার 'দিদি'র প্রতি বিমুখ। বীরভূমের দর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের মুখেও দল ছাড়ার কথা শোনা গেল। বিধানসভা ও সংসদে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে চুরমার হচ্ছে, তখন ভাঙনের শেষলগ্নে দেখা যাচ্ছে, মমতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতারাও সরে যাওয়ার তোড়জোড় করছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হল অনুব্রত মণ্ডলের নামও। তাঁর বক্তব্য, সম্মান না পেলে আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকবেন না।
বিদ্রোহীদের সমর্থন জানাচ্ছেন অনুব্রত
বাকি দলছুট নেতাদের মতো তিনিও বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC কে দুষছেন। এমনকী লোকসভা ও বিধানসভায় যে বিদ্রোহীদের গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, সেটিকেও সমর্থন জানাচ্ছেন অনুব্রত। বলছেন, '১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী ছিলেন। আমরা সাতটি আসন জিতেছিলাম। তখন কোনও জ্ঞানীমুনি ছিল না। আমাদের মতো রাখাল-বাগালরাই দলকে টেনেছে। আইপ্যাককে তখন দরকার হয়নি। পরে তাদের প্রয়োজন পড়ল কেন? ওদের জন্যই দলের এই ভরাডুবি। দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে ওরা টাকা তুলেছে। রাজনীতির কিছু জানে না। ওরা পয়সা কামাতেই এসেছিল।'
কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল
বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনে অন্যবারের মতো দাপট দেখা যায়নি অনুব্রতর। হাসন আসনে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত কাজল শেখ জিতেছেন। সেই কাজলের প্রচারেও ছিলেন না তিনি। সেই অনুব্রতই এখন কংগ্রেসের প্রশংসা করছেন। কংগ্রেস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে মমতার ভুল ছিল, তাও মানছেন অনুব্রত। তাঁর কথায়, 'কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আমরা ক্ষমতায় এলাম। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! আইপ্যাক এত টাকা তুলল। কিন্তু কেউ যদি জেগে ঘুমোয়, দলের তো এই অবস্থা হবেই।'
মমতা একা হয়ে গিয়েছেন
অনুব্রত মণ্ডলের পরবর্তী গন্তব্য কী? এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে অনুব্রতর বক্তব্য, 'ভুল তো করছেন না। বিজেপিতে তো যাচ্ছেন না। আলাদা ফ্রন্ট করছেন। সকলে যে দিকে যাবেন, সে দিকেই তো যেতে হবে। মমতা একা হয়ে গিয়েছেন। দেখে খারাপ লাগছে। ওঁকে আমরা সকলেই ভালোবাসতাম। কিন্তু শেষ দিকে উনি কার পাল্লায় পড়লেন জানি না।'
বিধানসভা ভোটে তাঁকে কেন সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি, সেই প্রসঙ্গেও একরাশ হতাশা অনুব্রতর গলায়। বললেন, 'সম্মান পেলে আমি দল করব। না পেলে চুপচাপ থাকব। অন্য দলে যাব না। বিজেপিতে যাওয়ার কথা এখনও ভাবিনি। জেল থেকে ফেরার পর থেকেই আমি রাজনীতি করা বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা অন্য জনের হাতে ঘি খেয়েছে। আমার হাতে খায়নি।'