অটো ভাড়া বাড়লকলকাতা সহ শহরতলির একটা বড় অংশের মানুষ যাতায়াতের জন্য অটোর উপরই নির্ভরশীল। আর সেই অটো পরিষেবাতেও ইরান যুদ্ধের আঁচ পড়েছে। বেড়েছে জ্বালানির দাম। এমনকী অটোর গ্যাস পাওয়াও যাচ্ছে না। যার ফলে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই একাধিক জায়গায় অটো ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা বলে অভিযোগ। গড়িয়া, বারুইপুর, বারাসত সহ একাধিক জায়গায় অটো ভাড়া বেড়েছে বলে খবর মিলছে।
আর হুট করে অটো ভাড়া বাড়তেই চাপ পড়ছে মধ্যবিত্তের পকেটে। বাড়তি টাকা খরচ করেই যাতায়াত করতে হচ্ছে। আর তাতেই তৃণমূল সরকারের দিকে উঠছে আঙুল।
যদিও অটো ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, সব অটোর ভাড়া বাড়ানোর পরিস্থিতি হয়নি। অনেক অটো চলে পেট্রোল এবং ডিজেলে। CNG গ্যাসে সমস্যা হচ্ছে।
আর এই পরিস্থিতি সামলাতেও তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, 'আমরা CNG গ্যাস যাঁরা সাপ্লাই করে, তাঁদের ডেকেছিলাম। বলেছি সাপ্লাই ঠিক রাখুন... অটো যাতে গ্যাস পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করুন। রাজ্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।'
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দলগুলি। অটো ভাড়া বাড়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ি বলেন, 'প্রতিবছর পুজোর সময় নিয়ম করে ভাড়া বেড়ে যায় ২ থেকে ৫ টাকা। তারপর আর দাম কমে না। তখন তো পেট্রোলের দাম বাড়ে না। কিন্তু তাও ভাড়া বেড়ে যায়।' পাশাপাশি তাঁর দাবি, তৃণমূল অটোর থেকে কাটমানি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে। তাই ভাড়া বাড়লেও কিছু বলার থাকে না।
সিপিআইএম নেতা কলতান দাশগুপ্তের কথায়, 'সরকার তো মানুষের ভাল করতে চায় না। তাই দাম বাড়ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। অটোর ভাড়া বাড়ছে। আর সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশেই এই অবস্থা। এর জন্য তৃণমূল-বিজেপি দুইই দায়ী।'
যদিও এই সব দাবি মানতে চাননি আইএনটিটিউউসি নেতা তাপস দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, 'দাম বাড়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই নিয়ে বৈঠক হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন নির্দেশ দেবেন, তেমনটাই করা হবে।'
পাশাপাশি তিনি জানান, অনেক অটো রুট ভাড়া বাড়িয়েছে। সংগঠনকে না জানিয়েই এই ধরনের কাজ করা হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।