
গ্রেফতার মূলচক্রী মতিউর রহমান মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে। এই দুটি ঘটনাতেই মতিউর রহমান নামে একজনের নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন মিডিয়ার থেকে পাওয়া ঘটনার সময়ের ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে সাংবাদিক হেনস্থা ও অশান্তির ঘটনায় মতিউর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি সানি রাজ। শোনা যাচ্ছে, এই মতিউর রহমান মিম নেতা। ইতিমধ্যেই এই জল্পনা ছড়িয়েছে। এই বিষয়টি চাউর হওয়ার পর থেকেই মিমের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। মিমের জেলা সভাপতি আসাদুল শেখ জানিয়েছেন, মিডিয়ার একাংশ যেটা দেখাচ্ছে মতিউর রহমান মিমের নেতা, সেটা ঠিক নয়। বর্তমানে মতিউর রহমানের সঙ্গে মিমের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, একসময় মতিউর রহমান মিম দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীর নতুন দল গঠন করার পর মতিউর রহমান মিম ছেড়ে দিয়েছেন।

হায়দরাবাদে সংখ্যালঘুদের দল মিম। এই দলের শাখা রয়েছে বাংলায়। এবিষয়ে একটি প্রেস রিলিজও দিয়েছে মিম। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'বেলডাঙার সাম্প্রতিক ঘটনায় যাঁর নাম উঠে আসছে, সেই মতিউর রহমানের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর কোনA সাংগঠনিক, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই-এ কথা আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট করে জানাতে চাই। কিছু সংবদমাধ্যম ও মিডিয়ার বন্ধুদের দ্বারা এই বিষয়ে যে খবর পরিবেশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। যাচাই না করে এ ধরনের খবর প্রকাশ করা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দল ও তার কর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা।'
এদিকে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার সানি রাজ জানান, শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙা এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করতেই বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে ইটবৃষ্টি শুরু হয় বলে অভিযোগ। গোটা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, ঘটনায় একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলবে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এসপি জানান, সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে মূল অভিযুক্ত মতিউর রহমান রয়েছে। এসপি জানান এই মতিউর রহমান শুক্রবারের সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনার পর শনিবারের ঘটনাতেও বড়ুয়া মোড়ে ছিল। সাংবাদিক হেনস্তার মতিউরই বিক্ষুব্ধ জনতাকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল বলে জানিয়েছেন এসপি।
রিপোর্টারঃ সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়