বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্ত চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি শুভেন্দুর

পুলিশের ভূমিকার সরাসরি করেন বিরোধী দলনেতা। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। শুভেন্দুর মতে, সময়মতো হস্তক্ষেপ না করায় দুষ্কৃতীরা আরও সাহস পেয়েছে। অভিযোগ আরও রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি, ফলে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

Advertisement
বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্ত চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি শুভেন্দুর

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি পাঠিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চিঠিতে শুভেন্দুর অভিযোগ, এই অশান্তি আকস্মিক নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। অতীতে নাগরিকত্ব আইন ও ওয়াকফ আইন সংশোধনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যেভাবে সংঘর্ষ হয়েছিল, এবারও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পুলিশের ভূমিকার সরাসরি করেন বিরোধী দলনেতা। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নিষ্ক্রিয় ছিল। শুভেন্দুর মতে, সময়মতো হস্তক্ষেপ না করায় দুষ্কৃতীরা আরও সাহস পেয়েছে। অভিযোগ আরও রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি, ফলে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই ব্যাপারে আরও একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জে আগেই মোতায়েন থাকা ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হল না? কলকাতা হাইকোর্ট তাদের মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল। শুভেন্দু তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেন, প্রশাসন ইচ্ছে করেই বাহিনীকে ব্যবহার করেননি।

উত্তেজনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু থেকে। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই সুজাপুর-কুমারপুর অঞ্চলে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো শুরু হয়। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর পরদিন আরও এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি আগুনে ঘি ঢালে। দুই দিনেই হামলার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা।

এদিন মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মুখ খোলেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় মহিলাদের কোনও সুরক্ষা নেই। বেলডাঙায় মহিলা সাংবাদিককে মারধর করেছে তৃণমূলের গুণ্ডারা। এমনই দাবি করেন তিনি। রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ যেভাবে বাড়ছে তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মুর্শিদাবাদের এসপি দাবি করেন, মাত্র আধঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে, এবং সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement