BJP নেতা ও পরিবারকে বেধড়ক মারধরবীরভূমের বোলপুর মানেই তো সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর, সেই বোলপুরের পাঁড়ুই থানার চৌমন্ডলপুর গ্রাম থেকে যে চাঞ্চল্যকর হিংসার চিত্র সামনে এসেছে, তা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপি কার্যকর্তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র, সাবল আর কুড়ুল নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা! শেখ হান্নান ও তাঁর পুরো পরিবারকে টার্গেট করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর গোটা এলাকায় এখন চরম থমথমে পরিবেশ। আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
ঘটনাটার সূত্রপাত হয়েছিল বীরভূমের বোলপুর বিধানসভার বোলপুর দু'নম্বর মণ্ডলের পাড়ুই থানার অন্তর্গত মঙ্গলডিহি অঞ্চলের চৌমন্ডলপুর গ্রামে। ঘড়ির কাঁটায় তখন পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই নেমে আসে এক চরম অরাজকতা। মঙ্গলডিহি শক্তি কেন্দ্র তিনের প্রমুখ শেখ হান্নান এবং তাঁর দাদা, ভাই ও ভাইপো—সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কার্যকর্তার ওপর হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী আক্রমণ চালায়। অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূলের লোকজনের দিকে। স্থানীয় সূত্রে এবং ভুক্তভোগীদের দাবি থেকে যে নামগুলো সামনে আসছে, সেগুলো সত্যিই ভয়ঙ্কর। সদাই শেখ, তাঁর ছেলে শেখ জাহাঙ্গীর, শেখ সুজন,শেখ মফিজুল এবং শেখ পলাশের মতো স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দুষ্কৃতীর নেতৃত্বে একদল লোক একেবারের পরিকল্পনা করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল ওই বিজেপি কর্মীদের ওপর। তাদের হাতে সাধারণ কোনও লাঠিসোটা ছিল না, বরং ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, সাবল, কুড়ুল এবং আরও নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও হরেক রকমের ভারী হাতিয়ার!
চৌমন্ডলপুর গ্রামের ওই বাড়িতে যখন হামলা চালানো হয়, তখন সেখানে এক পৈশাচিক কাণ্ড ঘটে। শেখ হান্নান এবং তাঁর পরিবারের ওপর চলা ওই অমানবিক অত্যাচারে পুরো এলাকা কেঁপে উঠেছিল। বেধড়ক মারধর এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বিজেপি কার্যকর্তারা। হামলার ভয়াবহতায় আশেপাশের মানুষ ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন, প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও কারও ছিল না। হামলাকারীরা যখন নিশ্চিত হয় যে তারা তাদের কাজ হাসিল করেছে, তখন তারা হুমকি দিতে দিতে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় মুহূর্তের মধ্যে গোটা চৌমন্ডলপুর গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কে কার আগে বাড়ি থেকে বেরোবে, সেই আতঙ্ক গ্রাস করে সাধারণ গ্রামবাসীদের।
এই খবর চাউর হতেই তড়িঘড়ি আসরে নামে পাঁড়ুই থানার পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই পুলিশ বাহিনী বিশাল দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপরতা শুরু করে। দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে মঙ্গলডিহি শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ শেখ হান্নানের শারীরিক অবস্থা নাকি কিছুটা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তবে তাঁর শরীরের যে ক্ষতচিহ্নগুলো রয়েছে, তা এই হিংসার রাজনীতির ভয়াবহতাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পুলিশ পুরো ঘটনাটার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং কোন কোন দুষ্কৃতী এই হামলার নেপথ্যে সরাসরি যুক্ত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া বা সাফাই দেওয়া হয়নি। তাদের নীরবতা কি তবে অপরাধ স্বীকারের ইঙ্গিত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে?
রিপোর্টারঃ শান্তনু হাজরা