মুর্শিদাবাদে আহত এএসআই (ছবি: নিজস্ব)ফের খবরের শিরোনামে মুর্শিদাবাদ। এবার জুয়ার ঠেকে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপর বোমা হামলার অভিযোগ। ইতিমধ্যেই আহত পুলিশ কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে সালার থানার অধীনস্ত খরেরা গ্রামে একটি জুয়ার আসর চলছে বলে খবর যায় পুলিশের কাছে। সেই মতো সেখানে হানা দিতে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময়ই পুলিশের উপর বোমা হামলা করা হয়। সেই ঘটনায় আহত এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই)-কে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।
বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত এএসআই সাদেক আলির চিকিৎসা চলছে। তাঁর শরীরিক অবস্থার উপর নজর রেখেছে প্রশাসন।
আর এই ঘটনার পর ওই রাতে জেলার পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা গ্রামে পৌঁছন। সেই সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
আর এই ঘটনার পর সোমবার সকালেও খরেরা গ্রামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে তল্লাশি চলছে। বেশ কিছুজনকে আটক করাও হয়েছে। এছাড়া পুলিশ তদন্ত করে দেখছে এই জুয়ার ঠেকের সঙ্গে কারা জড়িত, কাদের মদতে এই জুয়ার ঠেক চলছে।
বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার
এই তো কিছুদিন আগেই বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হয় মুর্শিদাবাদে। এই জেলার ডোমকলে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি ম্যাগাজিন ও চারটি কার্তুজ-সহ একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একটি স্কুটারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ডোমকলে একটি স্কুটারের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে ওই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় রবিউল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে। ধৃতের বাড়ি মুরারিপুর নতুনপাড়া এলাকায়। তার কাছ থেকে দুটি সেমি-অটোমেটিক ৭ এমএম আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি ৭ এমএম ম্যাগাজিন এবং চারটি ৭ এমএম তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ডোমকলের বাগডাঙা থেকে মধুরকুলের রাস্তায় পুলিশি তল্লাশিতে আটক করা হয় স্কুটারটিকে। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় অস্ত্রগুলি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির উৎস কী, সেগুলি কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এর আগেও মুর্শিদাবাদ থেকে বেআইনি অস্ত্র-কার্তুজ উদ্ধারে সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। কদিন আগেই পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয় ১০টি অত্যাধুনিক বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১টি ম্যাগাজিন এবং ২২৬ রাউন্ড তাজা গুলি। ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুর এবং শক্তিপুর এলাকায় দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। তারা হল জাব্বার মণ্ডল, আলমগীর শেখ এবং চাঁদ আলী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬টি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড গুলি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি বিহারের মুঙ্গের থেকে আজিমগঞ্জ হয়ে মুর্শিদাবাদে আনা হচ্ছিল। এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছিল এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।