Burdwan Medical College: বর্ধমান মেডিক্যাল চত্বরে ব্যান সমস্ত আন্দোলন, ক্ষোভ পড়ুয়াদের, কী বলছে সংগঠনগুলি?

বর্ধমান মেডিক্যালে আন্দোলন করা যাবে না কোনও আন্দোলন। এমনই একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই গর্জে উঠেছেন পড়ুয়ারা।

Advertisement
বর্ধমান মেডিক্যাল চত্বরে ব্যান সমস্ত আন্দোলন, ক্ষোভ পড়ুয়াদের, কী বলছে সংগঠনগুলি?বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ
হাইলাইটস
  • বর্ধমান মেডিক্যালে আন্দোলন করা যাবে না কোনও আন্দোলন
  • এমনই একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে
  • এরপরই গর্জে উঠেছেন পড়ুয়ারা

ক্যাম্পাসে কোনও ধরনের ধর্না, মিছিল, স্লোগানিং বা পোস্টারিং করা যাবে না। এমনকী হোস্টেলেও চলবে না আন্দোলন। এমনই এক নির্দেশ জারি করেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। আর এহেন নির্দেশ সামনে আসার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ এই অ্যাডভাইজারির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে। 

যতদূর খবর, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘটনায় ১২ ঘণ্টার অনশন করার ডাক দিয়েছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের একাংশের পড়ুয়ারা। তারপর পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কর্তৃপক্ষ। এরপরই কোনও এক অজ্ঞাত কারণে কলেজ চত্বরে যে কোনও ধরনের আন্দোনলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

আর এই ধরনের নির্দেশ সামনে আসার পরই পড়ুয়াদের একাংশ গর্জে উঠেছে। তাঁদের দাবি, ছাত্র ও ছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করছে কর্তৃপক্ষ। তারা এভাবে আন্দোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন না। 

এই বিষয়টা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস। তাদের পক্ষ থেকে সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বর্ধমান মেডিক্যালে ক্যাম্পাসে, হোস্টেলে কোথাও কোনও রকমের শান্তিপূর্ণভাবে কোনও মিটিং, মিছিল, অবস্থান এসব কিছু করা যাবে না বলে জানিয়েছে। এটা সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারার পরিপন্থী। এই ধারায় আমাদের মতামত জানানোর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা মানছে না মেডিক্যাল কলেজ।

তাঁর আরও অভিযোগ, 'অনেকগুলি মেডিক্যাল কলেজেও যাঁরা প্রিন্সিপাল এবং সুপার স্যারেরা আছেন, তাঁদের কাছে এরকম নির্দেশ এসেছে। তাঁদের বলা হয়েছে এই ধরনের কোনও মিটিং করতে দেওয়া যাবে না।'


এমতাবস্থায় তারা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকার নিন্দা করছেন। তারা এই আদেশ প্রত্যাহারের সপক্ষে করেছেন সওয়াল। পাশাপাশি সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টা তুলে ধরবেন বলে জানান হয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পাশে দাঁড়িয়েছে ন্য়াশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশন বা এনএমও। তাদের পক্ষ থেকে ডা: রুদ্রনীল নন্দী বলেন, 'আমরা সবসময় বলি, শিক্ষাঙ্গন বা বিশেষ করে মেডিক্যাল কলেজগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। সেখানে রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল এগুলো না হোক। কারণ, সেক্ষেত্রে পঠনপাঠনের অসুবিধে হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল আন্দোলন হলে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হয়। তাই আমরা চাই এমনটা যেন না হয়।'

Advertisement

তবে তিনি জানালেন, পড়ুয়াদের সমস্যার ক্ষেত্রেও তাঁদের সংগঠন সবসময় পাশে রয়েছে। সেক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণভাবেই তাঁরা সমস্যার সমাধান করবেন। তাঁর কথায়, 'পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়লে তাঁরা গিয়ে প্রিন্সিপালের স্যারের সঙ্গে, এমএসভিপি স্যারের সঙ্গে বা যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে কথা বলুক। কথা বলে সেই জিনিসগুলো মিটিয়ে নিক। আমরাও পাশে আছি। কিন্তু সেটা কখনও এই পর্যায়ে এ্যাসকেলেটেড হওয়া উচিত নয়, যেটা ক্যাম্পাসের সমস্ত পরিবেশ-পরিস্থিতিটা নষ্ট করে দিতে পারে।' 

 

POST A COMMENT
Advertisement