আসানসোলে খণ্ডযুদ্ধধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বাজানোকে কেন্দ্র করে আসানসোলের দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট জাহাঙ্গির মহল্লায় পুলিশ ও জনতার মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ। উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালাল পুলিশ স্টেশনে। তারপর লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। ঘটনার পর প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। শুরু হয়ে গিয়েছে তদন্ত।
কেন এই ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার মন্দির, মসজিদ সহ যে কোনও ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বাজানো নিয়ে নয়া নিয়ম এনেছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানে এভাবে লাউড স্পিকার লাগাতে হবে, যাতে আশপাশের এলাকায় সমস্যা না হয়। শব্দদূষণ না ছড়ায়। সকলকেই এই নিয়ম মানতে বলছে পুলিশ ও প্রশাসন।
আর এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত করতেই একাধিক ধর্মীয় স্থানে গিয়েছে আসানসোল উত্তর পুলিশ থানার অফিসাররা। এই কাজ করতে তাঁরা জাহাঙ্গির মহল্লাতেও পৌঁছে যায়। তাঁরা মসজিদ এবং মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের নতুন নিয়মের কথা জানায়। এমন পরিস্থিতিতে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবাদ শুরু করেন। তারপর দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে যায় কথা কাটাকাটি। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর জাহাঙ্গির মহল্লার পুলিশ স্টেশনের বাইরে প্রচুর সংখ্যায় স্থানীয় মানুষ জড় হয়। তারপরই পুলিশ স্টেশনে পাথর ছুড়তে শুরু করে তারা। এমন সময় পুলিশ স্টেশনের জানলা এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতি হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে সেখানে ডাকা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। এমনকী ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও পৌঁছে যায়। এরপর পুলিশ ওই অঞ্চলে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করে দেয়। তারপরই ধীরে ধীরে শান্ত হয় পরিস্থিতি।
যতদূর খবর, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পাশাপাশি বাড়ানো হয় এলাকার নিরাপত্তা। এরপরই ঘটনার জন্য তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ভিডিও দেখতে শুরু করেছে। সেখান থেকেই কারা কারা এই কাজে যুক্ত সেটা খোঁজার চেষ্টা করছে। যদিও এখনও তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।