CM Suvendu Adhikari on Digha: দিঘায় এবার মুম্বইয়ের মতো 'কুইনস নেকলেস', পর্যটকদের ট্যাক্সেও ছাড়, ভোল বদলে যাচ্ছে

দিঘাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার বিষয়েও জানিয়েছেন শুভেন্দু। এই বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দিঘা থেকে পেটুয়া পর্যন্ত উপকূল এলাকাকে যুক্ত করে মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারিত হবে। শুভেন্দু বলেন, 'এটা কোনও মেরিন ড্রাইভ নয়। চেন্নাই, মুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভ করতে হবে।'

Advertisement
দিঘায় এবার মুম্বইয়ের মতো 'কুইনস নেকলেস', পর্যটকদের ট্যাক্সেও ছাড়, ভোল বদলে যাচ্ছেমুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভ এবার দিঘায়


মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত রবিবার প্রথম দিঘা সফর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রশাসনিক বৈঠকও করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।  দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক শেষে পর্যটকদের  দারুণ সুখবরও দেন শুভেন্দু। জানিয়ে দেন,  দিঘা বেড়াতে গেলে আর দিতে হবে না অতিরিক্ত টাকা। প্রসঙ্গত, দিঘায় এতদিন পর্যটকদের থেকে চাঁদা নেওয়া হত। কিন্তু, এবার সেই চাঁদা আর দিতে হবে না। ১ জুলাই থেকে চাঁদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, হাত পেতে টাকা নেওয়া সরকারের জন্য খুবই আপত্তিজনক। তাই অতিরিক্ত টাকা  প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এবার থেকে পর্যটকদের আর দিঘায় গিয়ে দিতে হবে না বাড়তি ১০ টাকা চাঁদা। ১ জুলাই থেকে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, 'হোটেলের বিলের সঙ্গে ১০টাকা হাত পেতে নেওয়া। এর থেকে আসে ৩০লক্ষ টাকা। এখানে পর্যটক ৩০ লক্ষের বেশি হবে। হিসেব করলে অনেক বেশি টাকা হবে। ওখানে ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। যারা ঘোষনা ইনকাম ট্যাক্স,জিএসটি দিচ্ছেন তাদের থেকে আবার হাত পেতে পর্যটকদের থেকে ১০টাকা নেওয়া খুব আপত্তিজনক। তাই এটা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।'

 দিঘাকে ঢেলে সাজানোর  পরিকল্পনার বিষয়েও জানিয়েছেন শুভেন্দু।  এই বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী  জানিয়েছেন, দিঘা থেকে পেটুয়া পর্যন্ত উপকূল এলাকাকে যুক্ত করে মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারিত হবে। শুভেন্দু বলেন, 'এটা কোনও মেরিন ড্রাইভ নয়। চেন্নাই, মুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভ করতে হবে।'  প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভকে 'কুইনস নেকলেস' বলা হয়। দিঘা, উদয়পুর, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণির মতো পর্যটন এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের কথা বলেছেন শুভেন্দু। 

উন্নয়ন প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, 'বিগত সরকারের আমলে গত ২ বছর দিঘার কোন উন্নয়ন হয়নি। রাস্তা ঘাট ,স্বাস্থ্য পরিষেবা পর্যটকদের নিরাপত্তার খুবই খারাপ অবস্থা। দিঘা হাসপাতালে প্রাথমিক পরিষেবা নেই। কিন্তু এবার ট্রমা অ্যাম্বুল্যান্স-সহ একটা পর্যটন কেন্দ্রের হাসপাতালে যা যা দরকার তা করতে হবে।' বৈঠক থেকেই স্বাস্থ্যসচিবকে জানানো হয়েছে দিঘা হাসপাতালে যেন নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক বা অর্থোপেডিক পাঠানো হয়। মুখুমন্ত্রী এও জানান, অন্তত ১০০ বেডের হাসপাতাল করার কথা হয়েছে। থাকছে ৫টা আইসিইউ, ৫টা এইচডিইউ, বাচ্চাদের জন্য ৫টা এসএনসিইউ। ট্রমা অ্যাম্বুলেন্স, এসি ডেডবডি ক্যারিয়ারের কথা বলা হয়েছে। এরকম একটা ট্যুরিস্ট স্পটের জন্য যা যা দরকার হতে পারে, সেইসব বলা হয়েছে।

Advertisement

সমুদ্রতটে নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, গোটা সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। তাঁদের অর্থবৃদ্ধি করার কথা বলেছি।' আগামী দিনে তাজপুরের অদূরে দাদনপাত্রবাড়ে তৈরি হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, '১৭০০ একর জমি আমাদের হাতে আছে। তাছাড়া সমুদ্রের গভীরতা ভালো। সমুদ্রবন্দর হলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে যাবে। পাশাপাশি ফরেষ্টের কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন চেয়ারম্যান, প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী ২৫০কোটি টাকার নিজস্ব তহবিল তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেটা মেলা-খেলাতে খরচা করেনি। তাতে হাত দিতে পারেনি। অতীত বাদ দিয়ে ভালো কাজ হবে।'

শুধু পরিষেবা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নয়, দিঘায় রথযাত্রা উৎসব কীভাবে সব রীতিনীতি মেনে করা যায়, সেটাও দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  দিঘায় এবার কীভাবে রথযাত্রা হবে সে বিষয়ে মুখ্যসচিবকে উপযুক্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেন শুভেন্দু অধিকারী। দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের একটি ফেসবুক পোস্টের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী কিছু তথ্য সংশোধন করে দেন। তাঁর কথায়, 'এই কেন্দ্রের অফিশিয়াল নাম 'শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার'। সরকারি খাতা বা টেন্ডারে কোথাও 'ধাম' শব্দ নেই। যেখানে জগন্নাথের পুজো হয় তা মন্দির হিসেবে থাকবে। জগন্নাথদেবের নিত্যপূজা, ভোগ, আরতি ও কীর্তন-ভজনের ব্যবস্থা থাকবে।


 

POST A COMMENT
Advertisement