আলুচাষিদের জন্য কী কী বড় ঘোষণা শুভেন্দুর?রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাখা হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’। আজ এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি হস্তান্তর করা হয় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে। হুগলির পরশুড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে ৪৬ লক্ষের বেশি নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছে যায়। পরশুড়ার এই সভা থেকে আলু চাষিদের জন্য বিশেষ ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ
হুগলির পুরশুড়ায় কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।’ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, বর্ধমানের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে। ৪৬ লক্ষ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। শুভেন্দু বলেন, 'রাজ্যের কৃষকরা ৬ হাজারের পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা পাবেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফলে।' এদিন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, চল্লিশ শতকের বেশি জমি থাকলে বছরে কৃষকরা পাবেন ৬ হাজার টাকা। এই টাকা মিলবে ২ কিস্তিতে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৪ লক্ষ কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে ইউনিট প্রতি ২ টাকা করে। এদিন মালদার ভুতনির চরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০,৭৫০ জনকে মুসুর ও সর্ষের বীজও বিতরণ করা হয়। বন্যায় যে কৃষকদের বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার, আংশিক ক্ষতির ক্ষেত্রে ৯০,০০০ ও সামান্য ক্ষতি হলে ৪০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে।
আলুচাষিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
এদিন আলুচাষিদের উপর অত্যাচার প্রসঙ্গে মমতা সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, 'বিগত তৃণমূল সরকারে আমলে রাজ্যের আলু বাইরে যেত না। আলু নষ্ট হত। দাম পেতেন না কৃষকরা।' এরপরই আলুচাষিদের জন্য সুখবর শোনান মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ভিনরাজ্যে আলু রফতানিতে কোনও বাধা থাকছে না। বরং গাড়ি বা ট্রেনে কুইন্টাল পিছু আলু রফতানিতে ৫০ টাকা ভুর্তকি মিলবে। তিনি আরও জানালেন, আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমার আওতায় এনে বিমার অংশটিও মকুব করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অংশ মেটাবে।
আলুচাষিদের জন্য কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন আলুচাষিদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে কোনও আলুর গাড়ি কেউ বর্ডারে আটকাবে না এমন আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শুভেন্দু জানান, কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষম করে রাখা ২৭ লক্ষ আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। সময়সীমা ৩১ ডিসম্বর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। আলু গাড়িতে বা রেলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেবে সরকার।
বাজারে আলুর দাম কমে গেলেও চাষিদের চিন্তা নেই
শুধু আলু চাষি নয়, কোল্ড স্টোরেজগুলিকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজকে মার্কেটিয়ার বা বাজারজাতকরণের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আলু সংরক্ষণের পাশাপাশি বাজারে আলু বিক্রির ক্ষেত্রেও আরও ভালো ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আলুর দাম নিয়ে চাষিদের দুশ্চিন্তা কমাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। কুইন্টাল পিছু ১১২০ টাকা ফ্রি বন্ড মূল্য দেওয়া হবে। বাজারে আলুর দাম নির্ধারিত স্তরের নীচে নেমে গেলে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। শুভেন্দু জানান, 'কমে যাওয়া দাম ভর্তুকি হিসেবে সরকার দেবে।' অর্থাৎ বাজারদর কমে যাওয়ার কারণে যাতে আলু চাষিদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখবে সরকার। এ ছাড়াও সৌরশক্তি চালিত হিমঘর তৈরির জন্য ৫০টি কৃষক মান্ডিতে ১৫০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ থেকে বিক্রি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাষিদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আলুর গাড়ি সীমান্তে আটকে থাকার সমস্যা, বাজারে দাম না পাওয়া এবং কোল্ড স্টোরেজ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করাই এখন সরকারের লক্ষ্য। সব মিলিয়ে আলু চাষিদের আর্থিক সুরক্ষা, ন্যায্য দাম এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নতিতে একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী।